নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮টি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দিয়ে চলছে। পাঁচ-সাত বছর ধরে উপজেলার এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য থাকায় এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টিতে প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন। ২৮টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। আর বাকি দুটি ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের নামো হাটদৌল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পাঁকা ইউনিয়নের তকিনগর সরকারি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। উপজেলায় অর্ধেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে একজন সহকারী শিক্ষককে ওই পদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। ওই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ততার কারণে তাদের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে বাকি শিক্ষকদের ওপর পাঠদানের বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। আবার প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণেও বাধার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। ফলে দীর্ঘ সময় উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, তিনি গত জুন মাসে ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। এর আগেও তিনি উপজেলার অন্য বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শ্রেণি পাঠদানের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের সব কাজ তাকে করতে হয়। বিদ্যালয়টিতে এখন মাত্র চারজন শিক্ষক আছেন। ফলে কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে এবং তাকে অফিসের কাজে কোথাও যেতে হলে বা ব্যস্ত থাকলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সমস্যা হয়। তাই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রধান শিক্ষক বলেন, একজন সহকারী শিক্ষক যখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকেন তখন অনেক সহকারী শিক্ষক মনস্তাত্ত্বিকভাবে তাকে মেনে নেন না। ফলে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সাবরিনা আনাম বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় সারা দেশেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ সমস্যা কেটে যাবে বলেন জানান তিনি।
