উত্তেজনা তুঙ্গে তুলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:০০ পিএম

১৪৮ রানের লক্ষ্যটি দেখতে সহজ মনে হলেও সেঞ্চুরিয়নের সবুজ ঘাসের উইকেটে আদতে ততোটা সহজ ছিল না। পাকিস্তানের পেসাররাও চেপে বসেছিল প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের ঘাড়ে। ৯৯ রানে অষ্টম উইকেটের পতনের পর মনে হচ্ছিলো বক্সিং ডে টেস্টটি জিততে যাচ্ছে পাকিস্তান। পুরো ম্যাচে বোলিংয়ে নিজের সেরাটা না দেওয়ার আক্ষেপ থেকেই হয়তো ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন কাগিসো রাবাদা। মার্কো ইয়ানসেনকে নিয়ে যে প্রতিরোধী জুটি তিনি গড়েন তাতেই ম্যাচের ফয়সালা হয়। ২ উইকেটে ম্যাচ জিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালও নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

পুরো ম্যাচেই দাপট দেখিয়েছেন দুই দলের পেসাররা। ম্যাচের ৩৮টি উইকেটের মাত্র একটি ছাড়া সবগুলো পড়েছে গতির কাছেতে পরাস্ত হয়ে।  প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ২১১ রানের জবাবে প্রোটিয়ারা তোলে ৩০১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ২৩৭ রানে। তাতে ১৪৮ রানের সহজ লক্ষ্য পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই লক্ষ্যে তৃতীয় দিনের শেষাংশে ১৯ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

চতুর্থ দিনে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১২১ রান করার প্রয়োজন ছিল প্রোটিয়াদের। এই অবস্থায় তিন বছর পর টেস্ট একাদশে সুযোগ পাওয়া পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আব্বাস হয়ে ওঠেন ভয়ংকর। এইডেন মার্করাম ও টেম্বা বাভুমার ৪৩ রানে জুটি ভাঙা দিয়ে করেন শুরু। এর পর তুলে নেন গুণে গুণে ৬ উইকেট। ৯৬ থেকে ৯৯ রানে যেতে প্রোটিয়ারা হারায় ৪ ব্যাটসম্যানকে।

এর পর মঞ্চে আসেন কাগিসো রাবাদা, অন্য প্রান্তে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করা মার্কো ইয়ানসেন। লক্ষ্য ছুঁতে তখনো প্রয়োজন ৪৯ রান। দুজন মিলে পণ করেন যেভাবেই হোক রানটুকু করতে হবে। আসছে বছরের ১১ জুন লর্ডসের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালকে পাখির চোখ করে দুর্দান্ত জুটি উপহার দেন দুজনে। ২৪ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকা ইয়ানসেন ঠেকিয়ে দেন চাপ। আর খোলা হাতে ৫ চারে ২৬ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলেন রাবাদা। তাতেই ম্যাচ জেতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় ফাইনালের টিকিট। প্রথম ইনিংসে ৮৯ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭ রানের ইনিংসের সুবাদে ম্যাচসেরা হন এইডেন মার্করাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত