এক বছরের ব্যবধানে গণপিটুনিতে দ্বিগুণের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আসক বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘মব জাস্টিস’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতার হাতে হওয়া বিচার) এর নামে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) আসক বিদায়ী বছরের মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে গণপিটুনির ঘটনায় ১২৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭ জন, খুলনা বিভাগে ১৪ জন, বরিশাল বিভাগে ৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ জন, রংপুর বিভাগে ৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালে গণপিটুনিতে ৫১ জন নিহত হয়েছিলেন।
আসক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মোট ৮৫৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৫৫১ জন।
পত্রিকার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন নারী এবং ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু কিশোর রয়েছে ১২৯ জন। এছাড়া নিহতদের মধ্যে ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আসক বলছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমে এলেও এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি। ২০২৪ সালে ২১ জনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পুলিশ হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনে ৬ জন মারা গেছেন।
আসকের হিসাবে, ২০২৪ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, উপাসনালয় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে ১৪৭টি। এসব ঘটনায় ৪০৮টি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ১১৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে ৯২ প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে। এসব ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩ জন এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮২ জন।
আসকের হিসেবে ২০২৪ সালে ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪০১ নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৩৪ জন। এছাড়া বিদায়ী বছরে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, বলাৎকার, অনলাইনে যৌন হয়রানিসহ শিশুর প্রতি নানা সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত থেকেছে। বিদায়ী বছরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন কারণে ৫৭৪ জন শিশু নিহত হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৩৪ শিশু।
আসকের মতে, বিগত বছরের মতো ২০২৪ সালেও সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই তংগোঝিরি এলাকায় ২৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে পূর্ব-বেতছড়াপাড়ার ১৭টি ত্রিপুরা পরিবারের ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, তাদের কাছে দুর্বৃত্তরা চাঁদা দাবি করেছিল। এরপর বসতবাড়িতে আগুনের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা সদরে মোটরসাইকেল চুরির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে মো. মামুন নামে এক যুবক প্রাণ হারান। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ি বাঙালির মধ্যে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় ৪ জন নিহত হন এবং ৫০ জন আহত হন। বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিদায়ী বছরে রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁওসহ প্রায় ৭০টি পরিবারের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
আতশবাজি, ফানুস ওড়ানো বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
বিদায়ী বছরে সরগরম আদালত পাড়া
দেরিতে হলেও সরকারের বোধোদয় হয়েছে: এবি পার্টি