ট্রান্স-আটলান্টিক ঐক্যের মুখ আর মুখোশ

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:১১ এএম

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাটো সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্প্রসারণ রোধের জন্য একটি সামরিক জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এখনো টিকে রয়েছে; অথচ মস্কোকেন্দ্রিক সেই সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাটি আর অটুট নেই। সেই সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভৌগোলিক ভগ্নাংশ হিসেবে রাশিয়াকে প্রধানতম হুমকি মনে করে আসছে জোটটি। অবশ্য ন্যাটো প্রাসঙ্গিকতার যুক্তি হিসেবে গত তিন-চার দশকেরও বেশি সময়ে এশিয়া-আফ্রিকায় নানা ‘পছন্দসই’ শত্রু তৈরি করেছে। এদিকে বিশ্বব্যাপী মার্কিন নেতৃত্বের বিশ্বব্যবস্থার সহযোগী ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ট্রান্স-আটলান্টিক দেশগুলোর মূল্যবোধ, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো ‘সফট পাওয়ার’-এর প্রধান ফেরিওয়ালা। এবার আটলান্টিকের দুই তীরে নতুন এক বাস্তবতা উদয় হয়েছে; সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়লাভ, যা পশ্চিমা ঐক্যের প্রশ্নে বড় এক ধাক্কা হতে চলেছে।

একটি প্রেক্ষাপটের ওপর নজর দেওয়া যাক, সেই নব্বইয়ের দশকে; যখন সোভিয়েত পতনোন্মুখ। সোভিয়েতের শেষের দিককার রাষ্ট্রনায়ক মিখাইল গর্বাচেভের শাসনামলে ন্যাটোকে রাশিয়া সীমান্তের কাছে সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি আদায় করা হয়। কিন্তু ১৯৯৯ সালে ন্যাটো প্রথমবারের মতো পূর্ব ইউরোপে প্রসারিত হয়ে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি এবং চেক প্রজাতন্ত্রকে সদস্যত্ব প্রদান করে। এরপর ২০০৪ সালে আরও সাতটি দেশ; যার মধ্যে বাল্টিক রাষ্ট্র এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া অন্তর্ভুক্ত হয়, ন্যাটোর সদস্যপদ লাভ করে। ২০০৮ সালে রুমানিয়ার বুখারেস্ট শীর্ষ সম্মেলনে ন্যাটো ঘোষণা করে যে, ইউক্রেন এবং জর্জিয়া ভবিষ্যতে জোটে যোগ দিতে পারবে। সোভিয়েত পতনের পর যত ন্যাটো সম্প্রসারণ হয়েছে, তার অনেকগুলোই সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র। রাশিয়ার দিক থেকে ওইসব সম্প্রসারণপর্ব নিয়ে বারবার আপত্তি জানানো হয়। ইউক্রেন ও জর্জিয়াকে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা রাশিয়ার জন্য মেনে নেওয়া মুশকিল ছিল। ২০০৮ সালে জর্জিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ এবং ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল দখলের মাধ্যমে রাশিয়া তার অসন্তোষ প্রকাশ করে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার সামরিক অভিযান ন্যাটো সম্প্রসারণের বিরোধিতার একটি চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে যেভাবে ন্যাটোভুক্ত করা হয়েছে,  তা-ও ভবিষ্যতের জন্য সংকট হবে।

পশ্চিমা গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালারা ন্যাটো যুদ্ধজোটকে সম্প্রসারণের বৈধতা ও যুক্তি দিতে তাদের ‘সফট পাওয়ার’-সর্বস্ব বুলি হাজির করেন। অর্থাৎ পশ্চিমা দেশগুলো এই সম্প্রসারণকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বাজার অর্থনীতির প্রসার হিসেবে চিত্রিত করে, যার জন্য ন্যাটো বা ইইউয়ের ছাতায় অন্তর্ভুক্তি বা তাদের সঙ্গে মিত্রতা রক্ষাকে শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। বস্তুনিষ্ঠ ট্রান্স-আটলান্টিক বিশেষজ্ঞদের কাছে ন্যাটো সম্প্রসারণের বিষয়টি শক্তির ভারসাম্যহীনতা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত। তাদের ভাষ্য মোটামুটি অ-ইউরোপের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এই সম্প্রসারণ সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। অনেকের ভাষায়, এই ভারসাম্যহীনতা দ্বিমেরু বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ দশার থেকেও বিপজ্জনক। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ‘পরমাণু ডক্টরিন’ পরিবর্তনের ঘটনা সেই বিপদসংকেত।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ন্যাটোর এই অন্যায্য সম্প্রসারণ এখন নিজেই নিজের বিপদ। সম্ভবত পশ্চিমা অক্ষের সমাধি হবে ন্যাটোর লাগামহীন সম্প্রসারণ ও অন্যায্য খবরদারির পরিণতি হিসেবে। চীন, উদীয়মান ভারত-ব্রাজিল এবং রাশিয়ার অবশেষ অস্তিত্ব আগামী পৃথিবীতে একটি বিকল্প বিশ্বব্যবস্থার যে সম্ভাবনা তৈরি করেছে; তার পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটো, ইইউ এবং জি৭ জোটের খবরদারি আরও ক্ষয়িষ্ণু হবে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, ন্যাটো ইউক্রেনে সরাসরি জড়াতে রীতিমতো ভীত হয়ে পড়েছে শুরু থেকে, যার কারণ হলো উল্টো দিকে রাশিয়ার মতো পরাশক্তির অবস্থান। অথচ আরব বসন্তের প্রেক্ষাপটে লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে সরাতে কতটা নির্লজ্জভাবে হামলা চালিয়েছিল। তাকে হত্যা করে সেই শাসনের ইতি ঘটায় ন্যাটোর বাহিনী। ইউরোপীয় মূল্যবোধের ফেরিওয়ালারা ছিল লিবিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও বেআইনি হস্তক্ষেপের কুশীলব।

ট্রান্স-আটলান্টিক ঐক্য ভঙ্গুর হওয়ার নেপথ্যে যেমন এতদিনকার প্রভাবশালী প্রগতিশীল মূল্যবোধের প্রতারণাপূর্ণ নীতির দায় রয়েছে, তেমনি আরও সত্য যে, সেই নীতিভ্রষ্ট অবস্থান ইউরোপে ক্রমে ক্রমে ডানপন্থার বিকাশ ঘটিয়েছে। আমেরিকায় ট্রাম্পের নব-উত্থান ইউরোপীয় ডানপন্থার সঙ্গে মিলেমিশে এমন এক দিকে ইউরোপকে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে তাদের জন্য হতাশাই শুধু অপেক্ষা করছে। সে কারণে জো বাইডেনের জার্মানি সফরে সংবাদমাধ্যমগুলো ডেমোক্রেট নেতাকে ট্রান্স-আটলান্টিক ঐক্যের শেষ মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে চিত্রিত করছিল। বিশেষত, এ বছরের মাঝামাঝিতে ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থার অভূতপূর্ব উত্থান ব্রাসেলসের নীতি প্রণয়নে বারবার বাধা সৃষ্টি করছে। ডানপন্থি হাওয়ার গভীরতা নেদারল্যান্ডসের সর্বশেষ নির্বাচনে, ফ্রান্সের আইনসভা নির্বাচন, জার্মানির এএফডি পার্টির ও নাৎসিবাদের প্রতি অনুরক্তদের উত্থান, হাঙ্গেরির সরকার এবং ইতালির সরকার গঠনের অংশীজনদের দিকে তাকালে বোঝা যায়। পূর্ব থেকে পশ্চিম ইউরোপে এসব ডানপন্থি ইইউয়ের কর্মতৎপরতা নিয়ে নাখোশ এবং তারা অনেক বেশি জাতীয়তাবাদী, অভিবাসনবিরোধী। আটলান্টিকের এক পাড়ে ট্রাম্প; আরেক পাড়ে জর্জিয়া মেলোনি (ইতালির প্রধানমন্ত্রী), উইল্ডার্স (নেদারল্যান্ডসের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা), ভিক্টর ওরবানের (হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী) উত্থান গোটা ইউরোপীয় ঐক্যের জন্য বিপদের কারণ; অন্তত ইইউয়ের মধ্য বাম, বাম, উদারপন্থি নেতারা এমনটাই মনে করেন।

এখন ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিযুক্তি বা অপেক্ষাকৃত মৃদু সক্রিয়তা দৃশ্যমান হলে, তা গত শতক থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক পটপরিবর্তন হবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব জোটগত সম্পর্কের খাতিরে কাগুজে হিসেবেই শুধু মিত্রতাকে টিকিয়ে রাখে, তাহলে সেটি পশ্চিমা সভ্যতার আধিপত্যের জন্য বিপজ্জনক। তা ছাড়া ইউক্রেন প্রশ্নে তাদের ঐক্য এখন ঘুণেধরা। হাঙ্গেরি তার বড় দৃষ্টান্ত। সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, জর্জিয়ার মতো দেশে রুশপন্থি দলগুলো ক্ষমতার বৃত্তের কাছাকাছি। সুতরাং সেসব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গতি-প্রকৃতি দৃঢ় পশ্চিমা ঐক্যের প্রশ্নে সহায়ক নয়। ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তার বিরুদ্ধে ইউরোপের নানা দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভগুলোতে ন্যাটোকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, ইউরোপের শীর্ষনেতাদের বাইরে রেখে ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি-প্রক্রিয়ার মধ্যমণি হলে অবাক করার মতো কিছু হবে না। সম্ভাব্য সেই পরিস্থিতি ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কে অবশ্যই আস্থার সংকট তৈরি হবে।

ন্যাটো, ইইউ থেকে জি৭ এসব জোটে পশ্চিমা ঐক্যের ভঙ্গুরতা বারবার দৃশ্যমান; যার কারণ দশকের পর দশক ধরে জোটের পশ্চিমা অক্ষের অভ্যন্তরীণ পক্ষগুলোর বেসামাল দ্বৈতনীতি ও স্বার্থপরতা। আফগানিস্তান থেকে লিবিয়া, হালের ইউক্রেন এবং গাজা প্রতিটি জায়গায় তাদের ভূমিকা শুধু প্রশ্নবিদ্ধ নয়, একেবারে মানবতাবিরোধী। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতিসংঘকে নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের অধীন করে রাখার জন্য মোটা দাগে তারাই দায়ী। আন্তর্জাতিক আদালতকে পর্যন্ত নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো পরিচালনার চাপ দেখা গেছে পশ্চিমা নেতাদের কথায়-আচরণে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মিত্র হিসেবে পশ্চিমাদের প্রতিশ্রুতির সংকট। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণার পর পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো সমস্বরে কিয়েভকে ততক্ষণ পর্যন্ত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়, যতক্ষণ না রুশ বাহিনী পিছু হটে। পশ্চিমা নেতারা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর উদ্ভূত নতুন বাস্তবতার আলোকে সুদৃঢ় ঐক্য প্রদর্শন করেছিল। ইইউ জোটে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ, পুতিনকে একঘরে করা, রুশ অর্থনীতির ওপর সামগ্রিক অবরোধ, ন্যাটোর আরেক দফা সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা পাঠানোর মধ্য দিয়ে ওই ঐক্য ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তেজ দেখাতে উদ্যমী করে রেখেছিল। তিন বছরে পা দেওয়ার অপেক্ষায় থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন ট্রাম্পের হাত ধরে সমঝোতার স্বপ্ন দেখছে।

ইউক্রেন আর গাজার যুদ্ধের ঘটনা পরম্পরা এবং এ দুটোকে কেন্দ্র করে পশ্চিমাদের দ্বৈতনীতি আর ভণ্ডামির চেহারাটা উন্মোচিত হয়েছে পরিষ্কারভাবে। গাজা যুদ্ধ এসব ‘গণতন্ত্রপ্রেমী’ নেতাদের মুখোশ আবারও উন্মোচন করে দিয়েছে। ইউরোপীয় মূল্যবোধের মুখ আর মুখোশের ফারাক মুছে ফেলেছে। ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে শিখণ্ডি খাড়া করে হাজার হাজার ফিলিস্তিনির প্রাণ হরণ করলেও পশ্চিমাদের অল্পজনই সহানুভূতিশীল হয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রায় অর্ধ লাখ মানুষের প্রাণের ওপর দাঁড়িয়ে পশ্চিমা প্রভাবশালী নেতৃত্ব সুশোভিত-সুউচ্চ প্রাসাদে ইসরায়েলের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য কাতর হচ্ছেন। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নারী-শিশুর করুণ পরিণতি শুধুই সংখ্যা। মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনি জনতার মতো মজলুম দ্বিতীয়টি নেই, যা পশ্চিমা চশমায় ধরা পড়ছে না। অতীতেও পশ্চিমা বিশ্বের এই কপটতা বারবার দেখা গেছে।

ইউক্রেনে যখন রুশ বর্বরতার গল্প তাদের ব্যথাতুর করে তোলে, ইরাক যুদ্ধে ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনীর অন্যায্য যুদ্ধে তাদের সমবেদনাটুকুও পাওয়া যায়নি। গাজার ক্ষেত্রেও তাই-ই ঘটছে। তবে আশার কথা হলো, আটলান্টিকের দুই তীরের অভিজাত দাবিদার দেশগুলোর শাসক আর জনতার মাঝে একটা দেওয়াল তৈরি হয়েছে, যেখানে শাসকদের ইসরায়েলমুখী অবস্থান, অন্যদিকে জনগণের মাঝে ফিলিস্তিনপন্থি আবেগ দৃশ্যমান। মার্কিন সমাজের ভেতরে ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতির ঢেউ প্রবল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আছড়ে পড়েছে। মার্কিন সরকার সেসব বিক্ষোভকে নারকীয় ও অন্যায্য কায়দায় দমন করেছে। ইউরোপের শহরগুলোতে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ হয়েছে, যা এখনো থেমে নেই। সম্ভবত ইসরায়েলি নিপীড়নের বিপরীতে গণমানুষের এই স্ফুরণ কোনো একদিন অগুনতি সমাবেশের শক্তিতে পরিণত হবে। স্পষ্টত, নরওয়ে, স্পেন, আয়ারল্যান্ডসহ আরও বেশ কিছু পশ্চিমা রাষ্ট্রযন্ত্রের অন্তর্নিহিত দৃষ্টিভঙ্গিতে নজিরবিহীন বাঁকবদল দেখা গেছে। এ ধরনের পরিবর্তন এটাই নির্দেশ করে যে, পশ্চিমা বিশ্বের ইসরায়েল-সম্পর্কিত বোঝাপড়া হুমকির মুখে। সেখানকার জনগণ শাসকদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে পশ্চিমাদের ইসরায়েলমুখী অবস্থানকে আরও ক্ষত-বিক্ষত করবে। ফলে ‘ইহুদিবিদ্বেষ’ শীর্ষক শব্দের রাজনীতি এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।

এদিকে পশ্চিমাদের এই সংকটাপন্ন ঐক্যের বিপরীতে নতুন ব্যবস্থা উঁকি দিচ্ছে। চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার সম্ভাবনা বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। পশ্চিমা বিশ্বের একমেরুকেন্দ্রিক নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে চীন ও রাশিয়া বহু-মেরুকেন্দ্রিক (Multipolar) একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যেখানে পশ্চিমাবিরোধী ইরান-উত্তর কোরিয়ার জোরালো অবস্থান থাকবে। ব্রিকস এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বে বিকশিত হচ্ছে, যা পশ্চিমা অর্থনৈতিক এবং সামরিক জোটগুলোর বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। বিশেষত ব্রিকসের মাধ্যমে ডলার নির্ভরতার বিকল্প হিসেবে নতুন মুদ্রা ব্যবস্থার প্রচেষ্টা এবং রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সামরিক সহযোগিতা তাদের নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে। চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বে নতুন বিশ্বব্যবস্থা যদি সফল হয়, তবে তা শুধু পশ্চিমা প্রভাব কমাবে না, বরং একটি নতুন ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করবে। এটি হয়তো সোভিয়েত-মার্কিন আড়াআড়ি বিভাজনের চেয়ে ভিন্নতর হবে।

লেখক: অনুবাদক ও লেখক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত