বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তারে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ২৫ 

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:২৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৬ জন টেটাবৃদ্ধসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা শান্তিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতরা হলেন- আলমগীর হোসেন, সোলেমান, সোহরাব হোসেন, রাসেল মিয়া, রফিক, দুলাল মিয়া, সনি মিয়া, রাসেল মিয়, সামীর মিয়া, ইসমাইল হোসেন, ইমরান হোসেন, হক মিয়া, মাসুদ মিয়া, শাহিন মিয়া, লালু মিয়া, রাব্বি মিয়া, হোসেন মিয়া, শাহপরান, শাহজালাল, শাহিন মিয়া।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সফু সরকারের বাড়ির সঙ্গে আজগর আলী সরকার বাড়ির বিরোধ চলছিল। পূর্ব বিরোধের জেরে বুধবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র রামদা, বল্লম, টেঁটা, ছুরি ও লাটিশোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ১৬ জন টেটাবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হয়। আহতদের পাশ্ববর্তী নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালেসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গত দুই মাস আগেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় টেটাবিদ্ধসহ ৩০ জন আহত হয়। 

সফু সরকার বাড়ির মতিউর রহমান সরকার জানান, দীর্ঘ ২ মাস ধরে আজগর আলী সরকার বাড়ির মো. সুলতান মাস্টারের পক্ষের লোকজন রাতের বেলা আমাদের বাড়িঘর ও লোকজনের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে আসতেছে। বুধবার সকালে হঠাৎ সুলতান মাস্টারের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা নিজেদের রক্ষা করতে তাদের ধাওয়া করি। এ সময় আমাদের লোকজন টেটাবিদ্ধ হয়ে আহত হয়।

আজগর আলী সরকার বাড়ির ইসমাইল হোসেন জানান, মাস দেড়েক আগে মতিউর রহমান ও তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা করেছিল। ওই সময় আমাদের পক্ষে অনেক লোকজন আহত হয়েছিল। তারপর থেকে আমরা গ্রামে যেতে পারছি না। গত মঙ্গলবার আমরা গ্রামের বাড়িতে যাই। এতে পূর্ব বিরোধের জেরে বুধবার সকালে মতির লোকজন আমাদের ওপর হামলাসহ বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। আমাদের পক্ষের অনেকেই টেটাবিদ্ধ হয়েছে।

বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, শান্তিপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। আহতরা নরসিংদীতে চিকিৎসা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনোপক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত