অবৈধ ভাটায় পুড়ছে কাঠ 

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৫৯ এএম

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে ইটের ভাটাগুলোতে তোয়াক্কা নেই সরকারি নিয়মনীতির। যেখানে সেখানে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসব ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠের গুঁড়ি ও লাকড়ি। কয়লা ব্যবহৃত ইটের ভাটার সংখ্যা একেবারেই কম। দালাল চক্রের মাধ্যমে ফসলি জমির মাটি সংগ্রহ করে তৈরি করা হচ্ছে ইট। বসতির পাশে এসব ভাটা গড়ে তুলে প্রতিনিয়ত পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেললেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলনগরে ১৮টি ইটের ভাটার মধ্যে ১৫টি ভাটা অবৈধভাবে চলছে। আর রামগতিতে ৪৮টি ইটের ভাটার মধ্যে অনুমোদন রয়েছে মাত্র ২টির। এদের বেশিরভাগ ভাটায় কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। যাদের বেশিরভাগই পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। স্থানীয়রা জানান, ব্রিক ফিল্ডের দানব ট্রাক্টরে মানুষ অতিষ্ঠ। ফসলি জমির মাটি অবাধে দালালচক্র বিক্রি করছে। যার কারণে চাষাবাদ করতে সমস্যা হচ্ছে। এসব ভাটার চিমনি ছোট ও দৈর্ঘ্য কম হওয়ায় কালো ধোঁয়া বসতবাড়ি-ঘরের বেহাল অবস্থা করছে। রাস্তাঘাটের অবস্থাও নাজুক করে ফেলছে ট্রাক্টরগুলো। ভাটা আইন (২০১৩) মতে, বসতির প্রায় এক কিলোমিটারের আশপাশে কোনো ইটের ভাটা গড়ে তোলা যাবে না। ফসলি জমির উর্বর মাটি, কৃষিজমি, পাহাড়, টিলা কাটা যাবে না আর কাঠের গুঁড়ির ব্যবহার নিষিদ্ধ।

কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স বাজারের উত্তরে আঞ্চলিক সড়কের পাশে বসতির পাশে ও ফসলি মাঠে গড়ে উঠেছে ইটের ভাটা। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের খননকৃত খাল ভরাট করে পানির গতিপথ পরিবর্তন করে ভাটার মালিকরা। চরবসু এলাকায় আকাশ, তাহেরা, লতিফ, হাসিনা, ভবানীগঞ্জ ফেন্ডস, মা ফাতেমা ও সোহাগ ব্রিকসসহ আরও কয়েকটি ইটভাটায় অবাধে কাঠ পুড়ছে।

রামগতিতে গত বছর ৪০টি ভাটা থাকলেও চলতি বছর আরও ৮টি নতুন ইটভাটা চালু হয়। চর রমিজ ইউনিয়নের চর আফজল মৌজায় ২৫টি ভাটায় ইট তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় সব ফসলি জমির মালিকদের থেকে মাটি কিনে দালালচক্র চওড়া দামে ভাটার কাছে বিক্রি করছে। আর ফসলি মাঠ খালি পড়ে রয়েছে। এসব ভাটায় কাঠের গুঁড়ি ও লাকড়ির ব্যবহার করে ইট পোড়ানো হচ্ছে। সব সময় ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি, ইট ও কাঠ বহন করায় কাঁচা-পাকা সড়কের বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে।

কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমা বলেন, ‘অবৈধ ইটের ভাটা সম্পর্কে পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছৈয়দ আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘উপজেলার যেসব ইটের ভাটায় পরিবেশ দূষণ, কাঠ পোড়ানো, কৃষিজমির মাটি পোড়ানোসহ লাইসেন্স নেই সেসব ভাটায় অভিযান চলবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত