জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:০৭ এএম

দরজা-জানালা ভেঙে গেছে, সাইড ওয়ালগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষাকালে বৃষ্টি এলে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে রোদ-বৃষ্টি ও শীতের কারণে এখানে ক্লাস করতে চায় না শিক্ষার্থীরা। এমনই জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে ফেনীর দাগনভূঞার সত্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নেই খেলার মাঠ, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষেরও সংকট। একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার উপযোগী যেই পরিবেশ দরকার, তার ছিটেফোঁটাও নেই এখানে। ফলে প্রতি বছরই কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

শিক্ষার উপযোগী পরিবেশের অভাবে অভিভাবকরা এই বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করাতে আগ্রহী নন বলে অভিমত শিক্ষকদের। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র ১০১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

জানা গেছে, দাগনভূঞার সত্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৭ সালে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনশেড ভবনের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। এই টিনশেড ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ২০১১ সালে পুরনো স্কুল ভবন থেকে ১০০ গজ দূরে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন পাঁচটি। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ আছে মাত্র দুটি। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত টিনশেড ভবনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। চলতি বছর ১০১ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত।

অপরদিকে জরাজীর্ণ ভবনটি এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুদ্র চন্দ্র দাস, জান্নাতুল মাওয়া ও সাদিকা আক্তার বলেন, বৃষ্টি এলে পানি পড়ে আমাদের জামা-কাপড়, বইখাতা ভিজে যায়। দরজা জানালা ভাঙা ক্লাসে বসতে মন চায় না। ভবনটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। অন্যদের বিদ্যালয় তো এমন নয়। আমাদের বিদ্যালয়টি মেরামত করা দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক মিজানুর রহমান জানান, দুই কক্ষ বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে নেই কোনো শৌচাগার। তাই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পুরনো ভবনের শৌচাগারে যেতে হয়। পুরনো ভবনের শৌচাগারটিও স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন নেছা বলেন, বিকল্প কোনো ভবন না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করাতে হয়। পুরনো ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। ২০১১ সালে নির্মিত হয় দুই কক্ষ বিশিষ্ট ভবন। যা শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সবকটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। বিদ্যালয়টি অবকাঠামোর দিক থেকে দাগনভূঞার অন্যান্য স্কুল থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া আলাদা আলাদা দুই জায়গায় ক্লাস চলায় শ্রেণি কার্যক্রম তদারকি করতে সমস্যা হয়।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুর রহমান জানান, সত্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আবেদন করলে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাব।’       

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত