৮০ রুপির উদ্যোগ ১৬০০ কোটিতে

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:০৮ এএম

আজ থেকে ছয় দশক আগের কথা। সাল ১৯৫৯। সময়টা মার্চ। ভারতের দক্ষিণ মুম্বাইয়ের সাত গুজরাটি গৃহিণী ঠিক করলেন ব্যবসা করবেন। পাঁপড়ের ব্যবসা। তারপরেই যাত্রা শুরু লিজ্জত পাঁপড়ের। ৬৫ বছর পর সেই ব্যবসাই ফুলে ফেঁপে দাঁড়িয়েছে ১৬০০ কোটি রুপির ব্যবসায়। ভারতের ঘরে ঘরে এখন অন্যতম পরিচিত নাম লিজ্জত পাঁপড়।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, ব্যবসার মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন যশবন্তীবেন যমুনাদাস পোপাট। সঙ্গে ছিলেন বাকিরা। কারোরই ব্যবসা বা বাজার সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। নিজেদের রান্নাবান্নার কৌশলকে হাতিয়ার করেই ব্যবসায় নেমেছিলেন এই নারীরা। উপকরণ বলতে ছিল ডালের গুঁড়া, মশলা, ভোজ্য তেল। কিন্তু সেটুকুও কেনার সামর্থ্য তাদের ছিল না। সে কারণে তারা ‘সার্ভেন্টস অব ইন্ডিয়া সোসাইটি’-এর সদস্য এবং একজন সমাজকর্মী ছাগনলাল করমসি পারেখের কাছ থেকে ৮০ রুপি ধার নিয়েছিলেন। সেই পুঁজি দিয়েই শুরু হয় তাদের ব্যবসা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোটা ভারত জুড়ে এখন এই পাঁপড় ব্যবসায় কাজ করে ৪৫ হাজারেরও বেশি নারী। যাদের প্রত্যেকেই আজ স্বনির্ভর। যুক্তরাজ্য এমনকি যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে এই পাঁপড় রপ্তানিও হয়।

এই সমবায় উদ্যোগের ব্যবসা এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘শ্রী মহিলা গৃহ উদ্যোগ লিজ্জত পাঁপড়’ নামে। শুধু গুণগত মানের জন্যই নয়, নারীদের সাফল্যের উদাহরণ হয়ে রয়েছে এই সংস্থা। বিভিন্ন মাধ্যমে পুরস্কৃত হয়েছে লিজ্জত। পদ্মশ্রী পেয়েছেন ব্যবসার উদ্যোক্তা যশবন্তীবেন পোপাট।

যশবন্তীবেন এবং তার সঙ্গী-সাথীরা নিজেদের ঘরের কাজ সামলে ব্যবসা করতেন। তাই বাধ্য হয়েই ব্যবসাকে পার্টটাইম হিসেবে শুরু করেছিলেন তারা। সংসার সামলে অবসর সময়ে পাঁপড় বানাতেন এই নারীরা।

অতিরিক্ত দু’পয়সা রোজগারের জন্যই এ কাজ শুরু করেন তারা। গুজরাটি ভাষায় লিজ্জত মানে সুস্বাদু। লিজ্জত পাঁপড়ের যা বিক্রি, তাতেই বলা যায় এর নামকরণ সার্থক। এখন সেই অবসরের উদ্যোগই লাখো মানুষের মুখে খাবার তোলার উপায় করে দিচ্ছে।

ছোট থেকে শুরু করে কোনো কাজের ব্যপ্তি কীভাবে বাড়তে পারে, তারই উদাহরণ হয়ে রয়েছে এই লিজ্জত পাঁপড় সংস্থা। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণও প্রধানমন্ত্রীর একটি বিকাশ স্কিমের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে লিজ্জত পাঁপড় সংস্থার উদাহরণ দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত