বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে কর্মকর্তারা অফিস শুরুর পর সচিবালয়ের অভ্যন্তরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোন হঠাৎ অকার্যকর বলে জানতে পারেন। পরে তারা নিশ্চিত হন টেলিফোনের লাইনের তার চুরি হয়ে গেছে। চুরির খবর ছড়িয়ে পড়লে সচিবালয়ে তোড়পাড় শুরু হয়। তড়িঘড়ি করে লাইন সচল করতে মাঠে নামে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)।
বিটিসিএলের একটি দল ৭ ঘণ্টার চেষ্টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোনের সংযোগ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার শাহবাগ থানায় জিডি করেন সচিবালয়ের বিটিসিএল ফোন্স-৩-এর ব্যবস্থাপক মোহম্মদ নাজিম হায়দার।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় একটি জিডি করা হয়েছে। এটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। এ ঘটনায় সচিবালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’
সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোন একটি উচ্চপর্যায়ের স্পর্শকাতর বিষয়। সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত বিভিন্ন ব্যক্তিসহ রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ লোকজনের সঙ্গে তিনি এ ফোনের মাধ্যমে কথা বলেন এবং তথ্য আদান-প্রদান করে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের টিউন গায়েবের ঘটনা স্বাভাবিক নয় বলেও উল্লেখ করেন তারা।
তারা বলেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা মোটেও কার্যকর নয়। দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষ যখন তখন নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে নির্বিঘ্নে আসা-যাওয়া করছে। সচিবালয়ের অভ্যন্তরে খাওয়া-দাওয়া ও কেনাকাটাও করছে বিনা বাধায়। একটি কার্যকর প্রশাসনিক স্থাপনার জন্য এটি কোনোভাবেই উপযোগী নয় । প্রধানমন্ত্রী এখন সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। এ অবস্থায় তার কার্যালয়-উপযোগী করে যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তা নেওয়া হয়নি।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। টানা সাত দিনের ছুটি শেষে গত সোমবার অফিস খোলে। ওই দিন (সোমবার) সকাল ৮টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তার কার্যালয় তদারকি ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রেড টেলিফোনটির টিউন (সংযোগ) নেই। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান। পর্যায়ক্রমে তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জানান। সর্বশেষ রেড টেলিফোনের টিউন না পাওয়ার বিষয়টি বিটিসিএল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি দলের টানা ৭ ঘণ্টা চেষ্টার পর সংযোগ ফিরে আসে।
এ বিষয়ে বিটিসিএল কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনে সংযোগ না থাকার বিষয়টি সকাল ৮টার জানানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে টেলিফোন সেটসহ এর অন্য বিষয়গুলো পরীক্ষা করে কাজ শুরু করি। ৭ ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকাল ৩টার দিকে সংযোগ দিতে সক্ষম হই। এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে।’
প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য বিটিসিএল থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। থানায় করা জিডিতে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপক নাজিম হায়দারের উল্লেখ করেন সচিবালয়ের পুরনো ভবন-১ থেকে নতুন ভবন-১ পর্যন্ত বাসনো টেলিযোগাযোগের কপার ক্যাবল, যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের টেলিফোন নম্বরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সচল রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তা অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
