মুখগহ্বরের ক্যানসারের কারণ ও প্রতিকার

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৫২ এএম

ওরাল ক্যাভিটির আভিধানিক বাংলা অর্থ হলো মুখ বা মুখগহ্বরের ক্যানসার। মুখগহ্বরের যে বিভিন্ন অংশ আছে সে অংশের কোনো এক জায়গায় যে ক্যানসারগুলো সৃষ্টি হয় তাকেই ওরাল ক্যাভিটি ক্যানসার বলা হয়। মুখগহ্বরকে আমরা প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। সামনের অংশকে আমরা বলি মুখগহ্বরের সামনের অংশ বা ওরাল ক্যাভিটি প্রপার আর পেছনের অংশকে বলি ওরোফ্যারিংক্স। মুখের যেসব অংশ ক্যানসারে আক্রান্ত হয় বেশি সেগুলো হলো ঠোঁট, জিহ্বা, গালের ভেতরের অংশ, মাড়ি, মুখের শক্ত ও নরম তালু, গলার নিচের অংশ।

কী কী ধরনের মুখের ক্যানসার হয়ে থাকে?

মুখের ক্যানসার মূলত ৯৯ ভাগই স্কোয়ামাশ সেল কারসিনোমা। মুখের ক্যানসারের মধ্যে বেশি দেখা যায় ঠোঁট, জিহ্বা, গালের ভেতরের অংশ, মাড়ি ও মুখের তালুর ক্যানসার।

মুখের ক্যানসারের লক্ষণ কী?

প্রথমে একটা অস্বাভাবিক ব্যথাহীন মাংসপি- দিয়ে শুরু হতে পারে, ঘা হতে পারে যেটা সহজে সারছে না, ঢোক গিলতে ব্যথা অনুভূত হয়, কথা বলতে অসুবিধা হয়, জিহ্বা নাড়াতেও সমস্যা হতে পারে। বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি সাধারণত ঠোঁট, জিহ্বা, গাল, মুখগহ্বরের তলদেশ এবং গলার অংশে দেখা যায়। বিশ্বব্যাপী এই রোগে প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হন।

কারণসমূহ

মুখগহ্বরের ক্যানসারের প্রধান কারণ তামাক এবং তামাকজাত পণ্য সেবন। বিশেষ করে ধূমপান, গুল, জর্দা ও সুপারি সেবন এই রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়। অতিরিক্ত মদ্যপান, পানের সঙ্গে চুনের ব্যবহার এবং মুখের স্বাস্থ্যরক্ষায় অবহেলাও মুখগহ্বরের ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ায়।

লক্ষণ ও উপসর্গ

মুখগহ্বরের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মুখে বা ঠোঁটে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত, যা সেরে উঠতে দেরি করে। জিহ্বা বা মুখের ভেতরে সাদা বা লাল দাগ, খাবার গিলতে সমস্যা, চোয়ালের ব্যথা এবং মুখে অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া সাধারণ লক্ষণ।

চিকিৎসা

প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যানসার শনাক্ত করা গেলে সার্জারি, রেডিয়েশন বা কেমোথেরাপির মাধ্যমে এটি নিরাময় সম্ভব। তবে দেরিতে শনাক্ত হলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। তাই নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরোধ

মুখগহ্বরের ক্যানসার প্রতিরোধে তামাকজাত পণ্য ও মদ্যপান সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত। সুষম খাদ্য গ্রহণ, মুখগহ্বর পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই রোগপ্রতিরোধে সাহায্য করে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকার এবং স্বাস্থ্য সংস্থার আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

মুখগহ্বরের ক্যানসার একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সচেতনতার মাধ্যমে এই নীরব ঘাতককে জয় করা সম্ভব। নিজে সচেতন হোন এবং অন্যদের সচেতন করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত