সড়ক দুর্ঘটনায় মানবসম্পদের ক্ষতি ২১ হাজার ৮৮৬ কোটি

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:২০ এএম

২০২৪ সালে দেশে ৬ হাজার ৯২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২৯৪ জন নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ১২ হাজার ১৯ জন। ২০২৩ সালের তুলনায় গত বছর দুর্ঘটনা বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ, আর প্রাণহানি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। আহত বেড়েছে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। রোড সেফটি বলছে, ২০২৪ সালে এসব দুর্ঘটনায় মানবসম্পদের ক্ষতির আর্থিক মূল্য ২১ হাজার ৮৮৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, সাতটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থার নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

রোড সেফটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ৮৯৩ জন আর শিশু ১ হাজার ১৫২টি। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৬০৯ জন। এটি মোট নিহতের প্রায় ৩৬ শতাংশ। আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার প্রায় ৪০ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৫৩৫ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১ শতাংশের বেশি। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৯৮৪ জন।

২০২৪ সালে ১১৮টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত, ১৬১ জন আহত এবং ৩৯ জন নিখোঁজ রয়েছে। ৩৪৭টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৩২৪ জন নিহত এবং ২৭৭ জন আহত হয়েছে।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন : এ সম্পর্কে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলো সবচেয়ে বেশি হয়েছে আঞ্চলিক সড়কে, এর সংখ্যা ২ হাজার ৭৩৬টি। এটি মোট দুর্ঘটনার ৩৯ শতাংশের বেশি। আর ২ হাজার ৩৫৭টি হয়েছে জাতীয় মহাসড়কে, ৯৭২টি গ্রামীণ সড়কে, ৭৮৪টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৭৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন, যানবাহন ও এর সংখ্যা এবং সময় : এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ২ হাজার ৯০৮টি। এ ছাড়া ১ হাজার ৫২৭টি মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ১ হাজার ৫৬২টি পথচারীকে চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ৭৮২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৪৮টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

রোড সেফটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হলো পণ্যবাহী যানবাহন। এর পরেই আছে মোটরসাইকেল, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান ইত্যাদি), যাত্রীবাহী বাস, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্রা-টমটম) ইত্যাদি।

২০২৪ সালে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৭৯৬টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হলো পণ্যবাহী যানবাহন, ৩ হাজার ১৪৫টি। মোটরসাইকেলের সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৮।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের ৭৫ শতাংশ ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়স্ক। ২০২৪ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ৭৬১টি, নিহত হয়েছে ২ হাজার ৬০৯ জন, আহত হয়েছে ১ হাজার ৮৩২ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৯৬৩ জন বা ৭৫ শতাংশের বেশি ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি, ১ হাজার ৫৪টি। এ ছাড়া মোটরসাইকেলে ভারী যানবাহনের চাপা ও ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ২২টি, অন্য যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে ৬৩৭টি।

এ প্রতিবেদনের বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কর্তৃপক্ষের নানা প্রকার অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় অগণিত মানুষ হতাহত হচ্ছেন। কিন্তু এসব দুর্ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির অভাবে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি হচ্ছে না। সংজ্ঞা অনুযায়ী, বাংলাদেশের অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনাই কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত