রাজধানীসহ সারা দেশে ঘন কুয়াশায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। এ ছাড়া চলতি মাসে রাজধানীসহ দেশ জুড়ে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুরে হিমেল বাতাসে শীত জেঁকে বসেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের গতকালের বুলেটিনে জানানো হয়, সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ জানান, শৈত্যপ্রবাহ না এলেও ঘন কুয়াশার জন্য সারা দেশে তাপমাত্রা কমেছে। কুয়াশার কারণে দিনের বেলা শীত আরও বাড়তে পারে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশের জন্য এ তিন দিন রোদের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনাও কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী দুদিন ঘন কুয়াশার জন্য বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদী পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
গতকাল সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীতাকুন্ডে।
ঢাকায় গতকাল সকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কুড়িগ্রামে হিমেল বাতাসের সঙ্গে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি : কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও কমেনি শীতের তীব্রতা। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ও হিমেল বাতাসে কনকনে ঠা-ায় কাহিল হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। শীতকষ্টে পড়েছে অতিদরিদ্র ছিন্নমূল ,শ্রমজীবী এবং নদনদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ। প্রচন্ড ঠান্ডায় লোকজন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাইরে যাচ্ছেন না। গতকাল সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পরিমাপ করেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, যা এর আগের দিনের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশি। মধ্যরাত থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
কনকনে ঠান্ডায় গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। এর মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।
কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, আকাশে মেঘ থাকার কারণে তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।
হিমেল বাতাসে দিনাজপুরে তাপমাত্রা হ্রাস : হিমালয়ের পাদদেশের জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর। প্রতিনিয়ত ওঠানামা করছে তাপমাত্রার পারদ। সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাস। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ জেলার বাসিন্দাদের জনজীবন। সবচেয়ে বেকায় পড়েছেন দিনমজুররা। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে রাস্তাঘাট।
শীতের এমন শীতলতায় খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্টের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। শীত নিবারণের জন্য পুরনো মোটা কাপড়ের দোকানে ছুটছেন সাধারণ মানুষরা। এদিকে দিনে ও রাতে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস। গতকাল সকাল ৯টায় দিনাজপুরের জেলার সর্বোনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, বর্তমানে উত্তরের হিমেল বায়ুর সক্রিয় রয়েছে এবং এটি গড়ে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার গতিতে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হচ্ছে। দিনের তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
