লোকসান ঘোচাতে আবারও পানির দাম বাড়াচ্ছে রাজশাহী ওয়াসা। এরই মধ্যে তারা দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। ৩০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির এই প্রস্তাবনা অনুমোদন পেলেই তারা কার্যকর করবে।
সবশেষ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজশাহী ওয়াসা গ্রাহক পর্যায়ে পানির দাম বাড়িয়েছে। দাম বৃদ্ধির এই খবর জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়েছে এখানকার নাগরিক সমাজের নেতারা। তারা ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসারও দাবি জানান। তবে রাজশাহী ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের পানির দাম বাড়ানো হলেও পৌরসভারগুলো পানির যে দাম, ওয়াসার পানির দাম তার চেয়েও কম থাকবে।
পানির দাম বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব গত বছরের ১৬ অক্টোবর ওয়াসার ১৬তম বোর্ড মিটিংয়ে উত্থাপন করা হয়। ওই মিটিংয়ে ৩০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির সুপারিশের সিদ্ধান্ত হয়।
রাজশাহী ওয়াসার তথ্যমতে, সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ শাখাকে আলাদা করে ২০১০ সালের ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠা হয় রাজশাহী ওয়াসা। এখন ১২৩টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে তা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করছে ওয়াসা। বর্তমানে ওয়াসার মোট পানির সংযোগ আছে ৪৯ হাজার ২৪৮টি। এর মধ্যে আবাসিক ৪৮ হাজার ৫২৭টি আর বাণিজ্যিক ৭২১টি। এসব লাইনের মাধ্যমে বছরে ২ দশমিক ৫৩ কিলোলিটার পানি বিক্রি করে সংস্থাটি।
রাজশাহী ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, পানি সরবরাহ করতে গিয়ে প্রতি বছরই লোকসান গুনতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। সবশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা। পুরোটাই সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। অপরদিকে ওয়াসার আলাদা একটি সূত্র বলছে, সিস্টেম লসের কারণে ওয়াসার বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ কোটি টাকা। বিভিন্ন জায়গায় পানি নষ্ট হওয়া, চোরাই লাইনের মাধ্যমে পানি ব্যবহার করাসহ বেশ কিছু কারণে এই সিস্টেম লস হচ্ছে। অর্থাৎ সিস্টেম লস কমিয়ে আনতে পারলে কমে আসবে তাদের লোকসানের পরিমাণ।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবরে পাঠানো ওয়াসার প্রস্তাবনার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি এক হাজার লিটার পানির মূল্য আবাসিকে ৬ দশমিক ৮১ টাকা এবং বাণিজ্যিকে ১৩ দশমিক ৬২ টাকা হারে অভিকর নিচ্ছেন ওয়াসা। তবে ৩০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করে অবাসিকে ৮ দশমিক ৮৫ ও বাণিজ্যিকে ১৭ দশমিক ৭০ টাকা করার প্রস্তাবনা রেখেছেন তারা।
এ ছাড়াও আবাসিকে আধা ইঞ্চি পাইপে একতলা ভবনের জন্য মাসে সর্বনিম্ন ১৫০ টাকার পরিবর্তে ১৯৫ টাকা, ১০ তলা ভবনের জন্য ৮২৫ টাকার পরিবর্তে এক হাজার ৭৩ টাকা মূল্য ধরা হয়েছে। এক ইঞ্চি পাইপে একতলা ভবনে ৩৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮৮ টাকা এবং ১০তলা ভবনে ২ হাজার ৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৬৫১ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে নবম তলা পর্যন্ত কিংবা ১০তলার ওপরের তলার জন্য পানির বিল আনুপাতিক হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন নাগরিক সংগঠনের নেতারা। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ওয়াসা বলেছিল তারা নগরবাসীকে সুপেয় পানি নিশ্চিত করবে; কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা এটা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা যে পানির দাম বাড়াতে চায়, এটি রাজশাহীবাসীর আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও বলেন, তারা অতীতেও পানির দাম একসঙ্গে তিন গুণ বৃদ্ধি করেছে। তখনো আমরা বাধা দিয়েছি। কিন্তু তারা রাজশাহীবাসীকে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে সেই সময় কিছু রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মিলে এটি কার্যকর করেছেন। আবারও তারা যদি পানির মূল্য বাড়ায়, তবে রাজশাহীবাসী এক হয়ে কঠোর অন্দোলন ঘোষণা করবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাদিম সারওয়ার বলেন, এখনো দাম বৃদ্ধি হচ্ছে না। আমরা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছি। এখন দাম বৃদ্ধি করা বা না করা তাদের ওপর নির্ভর করছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। তিনি আরও বলেন, রাজশাহী ওয়াসা যে দাম বাড়াচ্ছে এটি একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন রাজশাহী ওয়াসার পানির বিলের চেয়ে রাজশাহীর অনেক পৌরসভার পানির বিল বেশি।
