মহেশখালি

ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর টাকাও লুট, গ্রেপ্তার ১

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৪৭ পিএম

কক্সবাজারের মহেশখালিতে রাতের আঁধারে বাড়ির জানালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে পাশবিক নির্যাতন চালানোর পর ধর্ষণ করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লুট করেছে একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাত ৩ টার দিকে উপজেলার কালারমার ছাড়া ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার হামিদ।

এতে আহত গৃহবধু বর্তমানে মহেশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একই ইউনিয়নের নলবিলা এলাকার মৃত ফজল আহমেদের ছেলে রিদোয়ান হককে (৩৮)। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দস্যুতা, ডাকাতি চেষ্টা, ধর্ষণের চেষ্টা, অস্ত্র মামলাসহ ৭ টি মামলা বিচারধীন আছে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমার স্বামী চিকিৎসার কাজে চট্টগ্রাম শহরে রয়েছেন। বুধবার রাতে বাড়িতে আমি ও আমার ননদ প্রতিদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়ি। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে আমার বাড়ির জানালা ভেঙে কয়েকজন সন্ত্রাসী আমার মুখ চেপে ধরে আমার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর কয়েকজন মিলে আমার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করে এবং তাদের আলমারি চাবি দিতে রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক একজনে ধর্ষণ করে। পরে তারা আমার কোমরে থাকা চাবি ছিনিয়ে নিয়ে আলমারির ভেতর রক্ষিত সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, জমি অধিগ্রহণ থেকে উত্তোলনকৃত টাকা পারিবারিক ভাগবাটোয়ারা পর আমার স্বামী প্রায় ৪ লাখ টাকা পান। সেখানে থেকে পারিবারিক কাজে কিছু খরচ করে বাকি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাপের বাৎষরিক মেজবান ও মায়ের ওমরাহর জন্য জমা রাখা হয়। সেই টাকাই লুট করেছে ডাকাতরা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ভিকটিমের ননদ ১০ বছরের মেয়ে বলেন, আমার ভাবীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে বাসায় গচ্ছিত টাকা লুট করেছে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা।

কালারমারছড়ার ইউপি সদস্য মুহাম্মদ আলী বলেন, ডাকাতির উদ্দেশ্যে একদল সন্ত্রাসী আমার এক আত্মীয়কে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে ধর্ষণ করেছে। আমি বিষয়টি জেনে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছি এবং প্রশাসন খবর দিয়েছি।

মহেশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক মুহাম্মদ রায়হান বলেন, কালারমারছড়ায় গৃহবধুকে ধর্ষণের আলামত পেয়েছি। ওই গৃহবধুর পুরো শরীরে কামড়ের একাধিক দাগ ও আঁচ রয়েছে।

মহেশখালী থানার ওসি কায়সার হামিদ বলেন, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে গৃহবধু বাদী হয়ে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত