উত্তর কোরীয় সেনাদের কিম জং উনের কাছে ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়েছে ইউক্রেন। তবে সেখানে একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে দেশটি। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পিয়ংইয়ং রাশিয়ায় আটক ইউক্রেনীয়দের মুক্তি নিশ্চিত করলেই কেবল জীবিত আটক সেনাদের উত্তর কোরিয়ার কাছে ফেরত দেবে কিয়েভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, কিন জং উনের কাছে তার সেনাদের ফিরিয়ে দিতে আমরা তৈরি। বিনিময়ে রাশিয়ার হাতে বন্দি থাকা ইউক্রেনীয় সেনাদের মুক্তির বিষয়ে তার সহায়তা করতে হবে।
শনিবার উত্তর কোরিয়ার দুই সেনাকে কুরস্ক থেকে আটক করার কথা জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি। এই প্রথম পিয়ংইয়ংয়ের কোনো সেনাকে জীবিত অবস্থায় হেফাজতে নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করল কিয়েভ। জেলেনস্কি আরও বলেন, কোনো সন্দেহ নেই সামনের দিনগুলোতে পিয়ংইয়ংয়ের আরও সেনা আমাদের হাতে বন্দি হবে। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার।
টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি দাবি করেছেন, আটকদের মধ্যে একজন উত্তর কোরিয়ায় ফেরত যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যজন বলেছেন, তিনি ইউক্রেনে থেকে যেতে চান। জিজ্ঞাসাবাদের একটি ছোট ভিডিও এক্সে প্রকাশ করেছেন তিনি। সেখানে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি হাতে আর অন্য এক ব্যক্তি চোয়ালে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় বসে আছেন। তাদের উত্তর কোরীয় সেনা হিসেবে দাবি করা হয় ওই ভিডিওতে। তবে স্বাধীনভাবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিকে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত উত্তর কোরীয় সেনাদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সোমবার এই তথ্য জানায় দেশটির একজন আইনপ্রণেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আইনপ্রণেতা বলেছেন, তিন হাজার হতাহত উত্তর কোরীয় সেনার মধ্যে অন্তত ৩০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বাকি ২ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। এনআইএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার এড়াতে প্রয়োজনে বোমা ফাটিয়ে আত্মহত্যার আদেশ দিয়েছে পিয়ংইয়ং। এনআইএসের বরাতে দক্ষিণ কোরীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, ইউক্রেন অনুরোধ করলে আটক উত্তর কোরীয় সেনাদের নিজেদের ভূখণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দক্ষিণ কোরিয়া।
ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্রদের মতে, গত অক্টোবরে উত্তর কোরীয় সেনারা রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। প্রাথমিকভাবে তাদের সংখ্যা ১০ হাজার ছিল বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া মস্কোকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ পিয়ংইয়ং সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ করে আসছে তারা।
