পৌষ মাসের ৩০ তারিখ পৌষ সংক্রান্তি বা সাকরাইন উৎসব নামে পরিচিত। কোথাও কোথাও মকর সংক্রান্তি হিসেবেও পালন করা হয়। পৌষ সংক্রান্তিতে মূলত নতুন ফসলের উৎসব ‘পৌষ পার্বণ’ উদযাপিত হয়। এই উৎসবকে ঘিরে গ্রাম বাংলায় বাড়িতে বাড়িতে আয়োজন হয়ে থাকে নানান রকমের পিঠা উৎসবের।
রাজধানীর পুরান ঢাকার বাসিন্দারা সাকরাইন উৎসবের মাধ্যমে দিনটিকে উদযাপন করে থাকেন। কেউ কেউ এটিকে পৌষ সংক্রান্তিও বলে থাকেন। সাকরাইন বা ঘুড়ি উৎসব পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। মূলত সকালের সূর্যোদয়ের পর থেকেই এদিন পুরান ঢাকার বাসাবাড়ির ছাদে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রস্তুতি শুরু হতে থাকে। বিকেল থেকেই আকাশজুড়ে বসতে থাকে নানান রঙের ঘুড়ির মেলা।
এসো উড়াই ঘুড়ি বাংলার ঐতিহ্য লালন করি’-স্লোগান সামনে রেখে উদযাপিত হচ্ছে এবারের সাকরাইন উৎসব। বাংলা পৌষ মাসের শেষ ও মাঘ মাসের শুরুতে ঐতিহ্যবাহী এ ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করে পুরান ঢাকাবাসী। দিনভর ঘুড়ি উড়িয়ে সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি আর রঙ-বেরঙের ফানুস উড়িয়ে সাকরাইন উৎসবকে আনন্দঘন করে তোলে।
এ উৎসব যুগ যুগ ধরে বহন করে চলছে ঢাকাবাসী। মূলত পৌষ সংক্রান্তি বা পৌষের শীতের আমেজকে বাড়তি মাত্রা দিতে ঘুড়ি উড়ানোকে কেন্দ্র করে সাকরাইন উৎসব পালিত হয়। কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী এমনকি বয়োবৃদ্ধরাও এ উৎসবে শামিল হন। দিনভর ঘুড়ি উড়িয়ে সন্ধ্যায় বিভিন্ন আয়োজনে সবাই আনন্দে মেতে ওঠেন।
ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য সুতা-মাঞ্জা দেওয়া থেকে শুরু করে গান-বাজনাসহ পিঠা উৎসবেরও আয়োজন চলে।
সাকরাইনের ঘুড়ি তৈরিতে রয়েছে শৈল্পিক নিদর্শন। বাহারি রঙের ঘুড়ি তৈরি করা হয় সাকরাইন উৎসবে। সেগুলোর মধ্যে গোয়াদার, চোকদার, মাসদার, গরুদান, লেজলম্বা, চারভুয়াদার, পানদার, লেনঠনদার, গায়েল ঘুড়িগুলো অন্যতম। বাহারি রঙের কাগজ, পলিব্যাগ ও বাঁশের অংশবিশেষ দিয়ে তৈরি হয় এসব ঘুড়ি। সঙ্গে থাকে বাহারি রঙের নাটাই। এ ছাড়া নাটাই ও ঘুড়িতে সংযোগ করা হয় বাহারি রঙের সুতা।
এসব বাহারি ঘুড়ির মালিককে নিয়েও আয়োজন করা হয় ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগিতা। বাসার ছাদে এসব প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগীদের মাঝে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ নির্ধারণ করা হয়। ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগিতায় মূলত যে যত বেশি উড়ন্ত ঘুড়ির সুতা দিয়ে অন্য ঘুড়ি কাটতে পারবে এবং শেষ পর্যন্ত যার ঘুড়ি উড়বে সে হবে চ্যাম্পিয়ন।
সাকরাইন উৎসবে পুরান ঢাকার বাড়িগুলোর ছাদ যেন বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়। সারাদিন ঘুড়ি ওড়ানোর পরে সন্ধ্যায় শুরু হয় চোখ ধাঁধানো আতশবাজির প্রদর্শনী। এছাড়া পুরান ঢাকা ও আশেপাশের এলাকাগুলোতে বাসার ছাদে সাউন্ড-সিস্টেম, আলোকসজ্জা ও লাইটিং করে সাজানো হয়।
কালের ধারাবহিকতায় সাকরাইন উৎসবে অনুষঙ্গের পরিবর্তন এলেও আমেজ ও আবেগটা কিন্তু এখনও প্রজন্মান্তরে রয়ে গেছে ঠিক আগের মতোই।
৩ বছর আগেই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ, জানালেন জয়
এবার টিউলিপকে পদত্যাগের আহ্বান ব্রিটিশ দুর্নীতিবিরোধী জোটের