আ.লীগ নেতাকে হাতুড়িপেটা যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:১০ পিএম

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাঁটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের যদুবয়রা পুরাতন বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তির নাম আব্দুল লতিফ লাইফা (৬১)। তিনি যদুবয়রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি এবং চর এতমামপুর গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে। তিনি নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিজ বাড়ির একটি কক্ষে শুয়ে আছেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ লাইফা। তার মাথায় সাদা ব্যান্ডেজ বাধা। পাঁয়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ক্ষত।

এ সময় তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে যদুবয়রা পুরাতন বাজারে চা পান করছিলাম। সে সময় হঠাৎ যদুবয়রা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শামিম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর আনিসুর রহমান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর রিপন আলীসহ ১৫/২০ লাঠিসোঁটা ও হাতুড় নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মাথায় কয়েকটা স্থান এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়েছে।

তিনি জানান, পুনরায় হামলা হতে পারে সেই ভয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাননি। থানাতেও লিখিত অভিযোগ করেননি।

লতিফের ছেলে আশরাফুল বলেন, আওয়ামী লীগ করার অপরাধে বিএনপির লোকজন বাবাকে অমানবিকভাবে নির্যাচন করেছে। তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

যদুবয়রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার রাতে কয়েকটা স্থানে মিছিল করে হামলা চালিয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ নেতা লাইফা এবং আওয়ামী লীগের সমর্থক রনজু মাস্টার ও মাফিন আহত হয়েছেন। তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

তবে হামলা ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে যদুবয়রা ইউনিয়ন যবদলের দলের আহ্বায়ক শামিম হোসেনম বলেন, ৫০/৬০টি মোটরসাইকেল বহর ছিল মঙ্গলবার রাতে। বহর নিয়ে এনায়েত বাজারে পৌঁছে শুনলাম মারামারি হয়েছে। কে বা কাহারা করেছে তা জানি না।

অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে ছিলাম না। কারা মারামারি করেছে তা জানি না।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর রিপন আলী বলেন, বাজারে গিয়ে দেখি স্থানীয় লোকজন একজনকে মারধর করতেছে। কাউকে চিনি না।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ বলেন, রাতে যদুবয়রাতে উত্তেজনা ছিল তবে মারামারির খবর জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত