সেন্টমার্টিনে আগুনে ক্ষতি ৬ কোটি টাকা, তদন্ত কমিটি

  • তিনটি ইকো রিসোর্টের ২৬টি কক্ষ পুড়ে গেছে
  • সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগুনে ক্ষতি ৬ কোটি টাকা
  • জেলা প্রশাসন ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৫০ পিএম

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আগুনে তিনটি ইকো রিসোর্টের ২৬টি কক্ষ পুড়ে ছাই হওয়ার পর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্বীপটিতে বর্তমানে বিভিন্ন মানের আড়াই শ’ আবাসিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দ্বীপের জনপ্রতিনিধির দাবি মাত্র কয়েকটি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। আর আগুন নিয়ন্ত্রণে নেই সরকারি ব্যবস্থাও।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দিনগত রাতে আগুনে দ্বীপের তিনটি ইকো রিসোর্টের ২৬টি কক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রাথমিকভাবে ৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের পক্ষে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে দ্বীপের গলাচিপা এলাকার বিচ ভ্যালি এবং কিংশুক ও সাইরি ইকো রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান।  

প্রত্যক্ষদর্শী ও ইকো রিসোর্টে মালিকদের বরাত দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, মধ্যরাতে সাইরি ইকো রিসোর্টের অভ্যর্থনা কক্ষ থেকে মাল্টিপ্লাগে শর্টসার্কিট হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে পাশে থাকা বিচ ভ্যালির ১৮টি কক্ষ, কিংশুক ইকো রিসোর্টের ৭টি ও সাইরি ইকো রিসোর্টের অভ্যর্থনা কক্ষসহ ২৬টি কক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

তিনি বলেন, সাইরি ইকো রিসোর্টের অভ্যর্থনা কক্ষে মাল্টিপ্লাগে শর্টসার্কিট হয়ে আগুনের উৎপত্তি হয়। অভ্যর্থনা কক্ষের ঠিক পেছনে বিচ ভ্যালি ইকো রিসোর্ট। বাতাস থাকায় মিনিটের মধ্যে বিচ ভ্যালির ছাউনিতে আগুন লেগে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই কয়েক মিনিটের মধ্যে শুকনো কাঠ আর বাঁশ দিয়ে তৈরি রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বিচ ভ্যালিসহ পাশের কিংশুক ইকো রিসোর্ট পুড়ে যায়। সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা এবং আগত পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোর ৪টার দিকে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

বিচ ভ্যালির ইকো রিসোর্টের ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দম্পতি বলেন, আগুনের সূত্রপাতের সময় অধিকাংশ পর্যটকেরা রিসোর্টের বাইরে ছিল। ফলে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে অধিকাংশ পর্যটকদের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং নির্ঘুম রাত কেটেছে। কটেজগুলোতে আগুন নিয়ন্ত্রণের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সবগুলো কক্ষ পুড়ে যায়।

দ্বীপের বাসিন্দা ও সাভিস ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রথমে সাইরি ইকো রিসোর্টে থেকে আগুন লাগে। পরে সেখান থেকে আরও দুটি রিসোর্টে আগুন লাগে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনসহ কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

টেকনাফ-২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পর্যটকদের নিরাপত্তাও জরুরি ছিল। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে স্থানীয় ৬ জন আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কিংশুক ইকো রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী সরওয়ার আলম বলেন, তিনটি রিসোর্টে আগুন লেগে প্রাথমিকভাবে ৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা অজিত কুমার দাস বলেন, সাইরি রিসোর্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে পাশের আরও দুটি রিসোর্ট আগুনে পুড়ে যায়। আমরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছি। এসব রিসোর্টগুলো উন্নতমানের ছিল। রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

পুড়ে যাওয়া কিংশুক রিসোর্টের সহকারী পরিচালক সাইফুদ্দিন বাবর বলেন, হঠাৎ করে রাতে আগুন দেখতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে হোটেলে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিই। ততক্ষণে আমাদের রিসোর্টের ১৫টি কক্ষ পুড়ে যায়। কাঠ-বাঁশ এবং ছাউনি দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল আমাদের রিসোর্টটি। তাই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া আমাদের ব্যবসা লোকসানে পড়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, আমাদের একটা টিম সেখানে পৌঁছেছে। আগুনের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। আর ক্ষতিগ্রস্তদের কীভাবে সহায়তায় করা যায়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুটি রিসোর্ট সম্পূর্ণ ভস্মীভূত এবং একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পর্যটকদের অবস্থান এবং গুরুত্ব বিবেচনায় ঘটনার তদন্তে টেকনাফ ইউএনওকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ দিনের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও সুপারিশমালা প্রণয়নে তদন্ত রিপোর্ট দিতে কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত