অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে হুমকিতে লোকালয়

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ০৪:২৪ এএম

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার খিরাম এলাকার সর্তা খালে অবৈধভাবে দিন-রাত চলছে বালু উত্তোলন। এতে খালের পানিপ্রবাহের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভাঙছে ফসলি জমি ও বাড়িঘর। অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলায় মারাত্মকভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে চালানো হচ্ছে এসব অবৈধ কার্যক্রম। তাদের ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না কেউ। একাধিকবার এসব এলাকায় প্রশাসন অভিযান চালালেও কোনো লাভ হয়নি।

সরেজমিনে খিরামের সর্তা খাল ঘুরে দেখা গেছে, দক্ষিণ খিরামের সর্তা খালে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী একটি চক্র। একই রকম খিরাম বাজারের পূর্ব পাশেও উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। কোনোরকম সরকারি ইজারা ছাড়াই প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি করে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বালু তোলার এ মহোৎসব। এতে পানিপ্রবাহে গতি পরিবর্তন হওয়ায় নদীর পাড় ভেঙে এলাকার ফসলি জমিসহ বাড়িঘর খালে বিলীন হওয়ার পথে। বালু উত্তোলনের পর বালুর গাড়ি পরিবহন করা হচ্ছে মানুষের কৃষিজমির ওপর দিয়ে। এতে জমির পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়কগুলো। তবে বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ কিছুই বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

খিরাম এলাকার বাসিন্দা উপজেলা কৃষক দল নেতা নুরুল আলম বালু উত্তোলনের কারণে দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে আমরা সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে। আমাদের গ্রাম, খাল ও রাস্তা গ্রাস করে নিচ্ছে। প্রশাসন যদি আমাদের সহযোগিতা করে, তাহলে হয়তো আমাদের জীবনটা বাঁচবে।’

গ্রামের বাসিন্দা মফিজুল আলম বলেন, ‘খালটা অনেক দূরে ছিল। বালু তোলার ফলে ধীরে ধীরে খালে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন প্রায় আধা মাইল এগিয়ে এসেছে। এখন আমাদের কয়েকটি গ্রাম ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।’

এদিকে গত বছরের বন্যায় সর্তা খালের একাধিক স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে ডুবে যায় গ্রামের পর গ্রাম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বর্তমানে ২৫টি স্থানে ভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ চলছে।

এ ব্যাপারে পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সোহাগ তালুকদার বলেন, ‘খালের তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন বেড়েছে। এখন থেকেই ভাঙনরোধে কাজ করতে হবে।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালালেও অদৃশ্য কারণে এসব বন্ধ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অবাধে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কারণে খালের বাঁধ, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়কগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘অবৈধ বালু মহালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্তা খালে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে আমরা দ্রুত অভিযান চালাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত