পর্যটক সংকট হতাশ উদ্যোক্তা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:২৯ এএম

ভরা মৌসুমেও আশানুরূপ পর্যটক নেই সাগরকন্যা খ্যাত সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটায়। গত দুবছর ধরে চলমান এমন মন্দায় পর্যটন খাতের বিনিয়োগকারীদের লোকসানের বোঝা বাড়ছে। এ অবস্থায় এই পর্যটন কেন্দ্রের বাণিজ্যিক মন্দা কাটাতে সরকারি সহায়তা আশা করছেন তারা।

একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখতে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় প্রতিনিয়ত ভিড় করে হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক। সরকারি ছুটিসহ প্রতিবছর শীতের আগমনে অর্থাৎ পর্যটন মৌসুমের শুরু থেকে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে কুয়াকাটার বেলাভূমিসহ দর্শনীয় স্থান। পদ্মা সেতু চালুর পর এ পর্যটন নগরীর সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয় আরও বেশি। কয়েক হাজার কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগে গড়ে ওঠে তারকামানসহ সাধারণ মানের প্রায় দেড় শতাধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট। দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে যুক্ত হয় নতুনত্ব।

কিন্তু গত দুবছর ধরে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্যবসায়ীদের নানা ছাড়, পর্যটকদের আর্কষণে নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপস্থিতি কমে গেছে উদ্বেগজনক হারে। সৈকতে নেই আগের মতো কোলাহল। ছুটির দিন ছাড়া হোটেল-মোটেল-রিসোর্টগুলো অধিকাংশ সময় থাকছে ফাঁকা। ট্যুরস অপারেটর প্রতিষ্ঠানের অফিসগুলোয় কর্মীরা অলস সময় পার করছেন। সৈকতের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীসহ ফিশফ্রাই পল্লী, রাখাইন মার্কেটে নেই কোনো উচ্ছ্বাস।

আচার ব্যবসায়ী জুয়েল বলেন, ছুটির দিনে পর্যটক থাকে। বাকি দিনগুলো হতাশার। একই কথা উল্লেখ করে ঝিনুকের পণ্য ব্যবসায়ী মিরাজ বলেন, ব্যবসা দূরের কথা, ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারী বেতন দেওয়া দায় হয়ে পড়েছে। খাবার হোটেল জোয়ারভাটার মালিক ফরিদ উদ্দিন বলেন, লোকসানের বোঝা আর নিতে পারছি না। হোটেল বন্ধ করে দেব।

পর্যটন নগরী কুয়াকাটার উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপকে শম্ভুক গতির উল্লেখ করে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতি সভাপতি হোসাইন আমির বলেন, করোনার মন্দার চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে কুয়াকাটায়। ট্যুরিস্ট বোটগুলো সাগরে অলস পড়ে থাকছে।

কর্মচারী বেতনসহ বোট মেরামত করতে পারছেন না অনেকই। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাখিমারা-কুয়াকাটা ১১ কিলোমিটার সড়ক বছর জুড়ে ভাঙা থাকায় পর্যটকদের মনে যে বিষাদ তৈরি হয়েছে তার প্রতিক্রিয়া এখন আমাদের ওপর চেপে বসেছে।

সব সেক্টরের বিনিয়োগকারী-ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করে কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি নতুন করে সাজানোর প্রস্তাবনা উল্লেখ করে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোশিয়েশন সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, সুন্দরবন, চর বিজয়, সোনার চর, পায়রা বন্দরের সাইট ট্যুর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সব হোটেল এখন বছর জুড়ে লোকসানের মুখে। এর ওপর ভ্যাট, ট্যাক্সসহ আরও ছয়-সাতটি লাইসেন্সের নবায়ন, নতুন লাইসেন্স গ্রহণের জন্য আইনি চাপ ব্যবসায়ীদের মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের বাস্তবমুখী ও আধুনিক উদ্যোগে সাগরকন্যা কুয়াকাটা পর্যটকদের পদচারণায় আবার হবে মুখরিত, বিনিয়োগকারীদের গুনতে হবে না লোকসানের বোঝা এমন প্রত্যাশা করে কুয়াকাটা ট্যুরস অপারেটর অ্যাসোশিয়েশন সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, পাখিমারা-কুয়াকাটা ১১ কিলোমিটার সড়ক ভালো হয়েছে। মাসব্যাপী পর্যটন মেলা চলছে। এরপরে রয়েছে তারুণ্য মেলা। আশা করছি পর্যটক বাড়বে। মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে কুয়াকাটার পর্যটন খাত।

আধুনিক ও পর্যটকবান্ধব পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে লেম্বুর চর-ধোলাইল মার্কেট পর্যন্ত লাইটিংসহ পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভের কাজ এগিয়ে চলছে। অভ্যন্তরীণ দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে সড়ক র্নিমাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৈকতকে গঙ্গামতি পর্যন্ত বিস্তৃত করতে শত কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। শিগগিরই কুয়াকাটা হবে একটি অধুনিক ও পর্যটকবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত