পাঁচ স্থানে জান্নাতিরা আল্লাহর প্রশংসা করবেন

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:০৫ এএম

সব মাখলুক নিজ অবস্থা অনুযায়ী মহান আল্লাহর প্রশংসা করে। ফেরেশতাদের একটি দল সর্বদা মহান আল্লাহর প্রশংসায় লিপ্ত থাকে। এছাড়া যাপিত জীবনে যেকোনো কাজ অর্জনের পর প্রতিটি মুমিন মুসলমান মহান আল্লাহর প্রশংসা করে থাকে, এই প্রশংসার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ হয়। এমনকি পরকালের জীবনে জান্নাতিরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন সেখানেও তারা পাঁচ স্থানে আল্লাহতায়ালার প্রশংসা করবে। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হলো।

যখন কাফেরদের পৃথক করা হবে : কেয়ামতের বিভীষিকাময় দিনে যখন কাফেরদের মুমিনদের থেকে পৃথক হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে, তখন মুমিনরা আল্লাহর প্রশংসা করবে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর (কাফেরদের বলা হবে) হে অপরাধীরা! আজ তোমরা (মুমিনদের থেকে) পৃথক হয়ে যাও।’ (সুরা ইয়াসিন ৫৯)

পুলসিরাত পারাপারের পর : হাশরের মাঠ থেকে চিরস্থায়ী সুখনীড় জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছতে যে পুল স্থাপন করা হবে সেটাকে পুলসিরাত বলে। পুলসিরাত হাশরের ময়দান থেকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে জান্নাত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে এবং অনেক ভয়ংকর হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমাদের প্রত্যেককেই তা অতিক্রম করতে হবে, এটি তোমার রবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। অতঃপর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদের আমি নিষ্কৃতি দেব আর জালেমদের তাতে মুখ থুবড়ানো অবস্থায় ফেলে রাখব।’ (সুরা মারইয়াম ৭১-৭২)

মুমিনরা যখন এই পুলসিরাত নিরাপদে পার হবে, তখন তারা মহান আল্লাহর প্রশংসা করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে সমস্ত দুঃখ দূর করেছেন। নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী।’ (সুরা ফাতির ৩৪)

নহরে হায়াত থেকে গোসলের পর : নহরে হায়াত হলো, জান্নাতের বিশেষ নহর বা নদ, যেখানে গোসল করানোর পর জাহান্নামে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া মানুষগুলো আবার সজীবতা ও সৌন্দর্য ফিরে পাবে। তখন তারা জান্নাতে প্রবেশের এবং আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিতে থাকবে। এক পর্যায়ে যখন তাদের জান্নাতে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হবে, তখন তারা আল্লাহর প্রশংসা করবে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এই স্থানে পৌঁছিয়েছেন। আল্লাহ আমাদেরকে না পৌঁছালে আমরা কখনোই (এ স্থানে) পৌঁছতে পারতাম না।’ (সুরা আরাফ ৪৩)

জান্নাতে প্রবেশ করার পর : যাবতীয় বিচারকার্যের পর মানুষ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা (অর্থাৎ জান্নাতবাসীরা) বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের সঙ্গে নিজ ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন এবং আমাদের (জান্নাতের) ভূমির এমন অধিকারী বানিয়েছেন যে, আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা হয় ঠিকানা বানাতে পারি। সুতরাং সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কত উত্তম!’ (সুরা জুমার ৭৪)

জান্নাতে আপনজন পাওয়ার পর : জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশের পর যখন তাদের আপনজনদের সঙ্গে একত্রে বসবাস করবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করবে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ইমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, তাদের ইমানের কারণে তাদের প্রতিপালক তাদের এমন স্থানে পৌঁছাবেন যে, প্রাচুর্যময় উদ্যানে তাদের তলদেশ দিয়ে নহর বহমান থাকবে। তাতে (প্রবেশকালে) তাদের ধ্বনি হবে এই যে, হে আল্লাহ! সব দোষত্রুটি থেকে তুমি পবিত্র এবং যেখানে তাদের অভিবাদন হবে সালাম। আর তাদের শেষ ধ্বনি হবে এই যে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক।’ (সুরা ইউনুস ৯-১০)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত