আন্দোলনে ছাত্র হত্যা

আসামি ধরতে গিয়ে মারধরের শিকার পুলিশ, অস্ত্র কেড়ে নিয়ে বেঁধে রাখে

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩৬ পিএম

সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি ধরতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। এসময় আসামির আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী ডিবি পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে বেঁধে রাখে বলেন জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসলেও আসামি জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের বেরাইদ এলাকার জাকির হোসেনের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অভিযুক্ত জাকির হোসেন বনগাঁও ইউনিয়নের বেরাইদ এলাকার আলী জানের ছেলে। তিনি জিয়া মঞ্চের সাভার থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে পরিবারের লোকজন। 

তবে পুলিশ বলছে, জাকির বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি এবং বনগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে বিএনপি কর্মী পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে।

জাকিরের স্ত্রী জোবাইদা আক্তার বলেন, আমরা রাতে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমাচ্ছিলাম। রাত ১২টার দিকে একজন পুরুষ ও একজন নারী এসে গেট খুলতে বলে। তবে তখন আমরা ভয়ে গেট খুলিনি। এসময় তারা আশপাশের বাড়িগুলোতেও ডাকাডাকি করলে সবাই উঠে আসে এবং অনেক লোক জড়ো হয়। এরপর কি হয়েছে আমি আর বলতে পারছি না। 

জাকিরের ছোট বোন পরিচয় দিয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল লোক আমার ভাইকে তুলে নিয়ে যেতে গেট ভাঙচুরের চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয়রা তাদের পরিচয় জানতে চায়। তখন তারা নিজেদেরকে পুলিশ পরিচয় দিলেও আইডি কার্ড দেখাতে পারেনি।

জাকির আগে থেকেই বিএনপি করতো দাবি করে তিনি জানান, জাকিরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সময় নাশকতার অভিযোগে অনেক মামলা হয়েছে। নিজেকে বাঁচাতে একসময় জাকির আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মিলে চলার চেষ্টা করে।  

জাকিরের মামা ফারুক বলেন, রাতে দুটি গাড়িতে করে একদল দুর্বৃত্ত জাকিরে বাড়িতে আসে। এসময় স্থানীয়রা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে দুইজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসী তাদের মারধর করে বেঁধে রেখে পুলিশ ফোন দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। 

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানান, রাতে পুলিশ পরিচয়ে জাকিরকে ধরতে আসলে তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা ও মারধর করে। একপর্যায়ে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাদের বেঁধে রাখে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন নারীও রয়েছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

তিনি জানান, জাকির এতদিন এলাকায় যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধ করে বেড়িয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়ায় নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করে তার অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে। এখন সে নিশান সিটিতে দুটি প্লট কিনে সদস্য হয়েছে। এছাড়া হাউজিং কোম্পানির পক্ষে সাধারণ মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি, মানুষকে মারধরসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করার জন্য তাদের শতাধিক লোকের একটি গ্রুপ রয়েছে। যাদের ডেকে এনে রাতে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। 

ঢাকা উত্তরের গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ জালাল উদ্দিন বলেন, জাকির নামে ছাত্র হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে এসআই সেকান্দারের নেতৃত্বে একটি দল বেড়াইদ এলাকায় অভিযানে যায়। এসময় এলাকাবাসী ভুয়া পুলিশ বলে আমাদের লোকজনকে আটকে রাখলে আমরা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করি। 

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যার ঘটনায় গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সাভার মডেল থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় জাবেদ আলীর ছেলে ও বনগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের জাকির হোসেন (৩৮) নাম রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত