‘গ্যাস সংকট কমাতে ১০০ কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার’

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৪৭ পিএম

গ্যাস সংকট কমাতে আগামী দুই বছরে সরকার সারাদেশে ১০০ নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ১০ বছরের মধ্যে আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে না। নতুন সংযোগের জন্য জমা দেওয়া অর্থ ফেরত নিতে পারেন। সংকট কমাতে আগামী দুই বছরে সারাদেশে ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন ও পুরোনো ৩১টি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে দিকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া এলাকায় জামালপুর-১ অনুসন্ধান গ্যাসকূপের খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি সচিব বলেন, এলপিজি গ্যাস মজুদের জায়গা স্বল্পতা থাকায় বৃহৎ আকারে আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। মজুদের জায়গা বৃদ্ধির জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। 

জামালপুর-১ অনুসন্ধান গ্যাসকূপের আনুষ্ঠানিক খননকাজ করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

এর আগে ১৯৮০, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ সালে উপজেলার তারতাপাড়া এলাকায় সাইসমিক জরিপে গ্যাস সন্ধানের তথ্য মিলে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করে কূপ খননের কার্যক্রম শুরু করেন। 

কর্মকর্তারা আশা করছেন, ওই কূপ থেকেও প্রতিদিন গড়ে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। গ্যাস সরবরাহ করা যাবে প্রায় ৩০ বছর। উত্তোলন করা গ্যাস পার্শ্ববর্তী যমুনা সার কারখানা ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপখনন প্রকল্পের আওতায় গ্যাস সন্ধানের জন্য এই কূপটি খনন করা হচ্ছে। প্রায় ১৬৮ কোটি টাকার ব্যয়ে কূপ খননের কাজ শুরু হয়। বাপেক্সের প্রকৌশলী ও শ্রমিকসহ ২২০ জন এই খননকাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এর আগে ১২ জানুয়ারি কূপ খননের স্থানে ড্রিলিং রিগ স্থাপন করা হয়েছে। গ্যাস সন্ধানের জন্য ৯০ দিন চলবে এই খননকাজ।

বাপেক্স কর্মকর্তারা জানান, বেশ কয়েকবার এ জায়গা জরিপ করা হয়েছে সেই তথ্য অনুযায়ী গ্যাস পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। 

গ্যাস সরিষাবাড়ী যমুনা সার কারখানাসহ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। দেশের অর্থনীতি ও শিল্পায়নকে আরও গতিশীল করতে বাড়তি গ্যাস প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে মানুষের চাহিদা পূরণে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান ও উৎপাদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত