সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তার সবকিছুই ছিল কল্যাণকর ও বরকতময়। তার দেহনিঃসৃত ঘাম সুবাস ছড়াত। সাহাবায়ে কেরাম তার পবিত্র হাতের ছোঁয়ায় অনুভব করতেন মেশকে আম্বরের সুঘ্রাণ। মহান আল্লাহ তার হাবিবকে এমনই কুদরতি বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছিলেন। তার ঘাম ছিল মেশকে আম্বরের চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়। মেশকে আম্বর উন্নতমানের সুগন্ধি, যা হরিণের মৃগনাভি থেকে তৈরি করা হয়। তিনি যে পথ দিয়ে হেঁটে যেতেন, কেউ তার তালাশে বের হলে সেই সুবাসের কারণে বলতে পারত নবীজি (সা.) এই পথ ধরে গমন করেছেন। পথিকরা সেই সুবাসে বিমোহিত হতো। হজরত জাবের ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুল (সা.) তার গালে হাত বুলিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার হাতের এমন কোমলতা ও সুবাস অনুভব করেছি, যেন তা আতরের কস্তুরি থেকে বের করে এনেছেন। (সহিহ মুসলিম ২৩২৯)
হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর (শরীর মুবারকের) চেয়ে বেশি সুগন্ধিময় কোনো আম্বর, মেশক বা অন্য কোনো বস্তুর ঘ্রাণ আমি পাইনি। (সহিহ মুসলিম ৫৮৪৫) নবীজি (সা.) প্রায় সময় হজরত উম্মে সুলাইমের ঘরে যেতেন। উম্মে সুলাইম ঘরে না থাকলে নবীজি (সা.) তার বিছানায় ঘুমাতেন। একবারে ঘটনা, হজরত আনাস (রা.) বলেন, একদিন হজরত উম্মে সুলাইম ঘরে ছিলেন না। নবীজি (সা.) আসলেন এবং তার বিছানায় ঘুমালেন। অতঃপর উম্মে সুলাইম চলে আসলেন। তাকে বলা হলো, নবীজি (সা.) আপনার ঘরে, আপনার বিছানায় ঘুমিয়ে আছেন। হজরত আনাস (রা.) বলেন, উম্মে সুলাইম ঘরে আসলেন। নবীজি (সা.) ঘেমেছেন, তার ঘাম মুবারক চামড়ার বিছানার ওপর জমে আছে। উম্মে সুলাইম তার কৌটা খুলে সে ঘাম মুছে মুছে শিশিতে ভরতে লাগলেন। হঠাৎ নবীজি (সা.) ঘুম থেকে উঠলেন। তাকে বললেন, তুমি কী করছ, হে উম্মে সুলাইম? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের শিশুদের বরকতের উদ্দেশে নিচ্ছি। নবীজি (সা.) বললেন, ভালোই করেছ। (সহিহ মুসলিম ৫৮৪৮)
