বিদেশি ছাড়াই দুর্বার রাজশাহী

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:৪১ পিএম

বিদেশিরাই শক্তি বাড়ায় একটা ফ্র‍্যাঞ্চাইজির। সেই বিদেশিদের ছাড়াই কাল খেলতে নেমেছিল দুর্বার রাজশাহী। সেটাও আবার চলতি আসরের সেরা দল রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে। নামার আগে কত সমালোচনা, শঙ্কা ছিল। ব্যাটসম্যানরা তা আরও জোড়ালো করেছিলেন। তবে মৃত্যুঞ্জয়সহ বাকি বোলারদের দাপটে দুর্বার লড়াকু এক জয় পেয়েছে রাজশাহী।

বিপিএলের ইতিহাসে রংপুর রাইডার্স বরাবরই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। এবারের আসরে টানা আট ম্যাচ জিতে প্লে-অফ নিশ্চিত করে তারা এবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। কিন্তু এই দলটির বিপক্ষে এক অন্যরকম লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে দুর্বার রাজশাহী। বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওনা টাকা না মেটানোয় বিদেশি ছাড়াই খেলতে বাধ্য হয়েছে তাসকিন আহমেদের দল। আর এই সংকটময় পরিস্থিতিতেও নিজেদের অদম্য প্রমাণ করছে রাজশাহী। প্লে-অফ দৌড়ে টিকে থাকা রাজশাহীর কাল রংপুরের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে তুলেছিল মামুলি সংগ্রহ।

টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে রাজশাহী। শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দ্বিতীয় ওভারেই বোল্ড করে ফেরান ওপেনার জিসান আলমকে। দলীয় ১১ রানেই প্রথম উইকেট হারায় রাজশাহী। এরপর তাসকিনের দল আর লড়াই জমাতে পারেনি। এনামুল হক বিজয় ও সাব্বির হোসেন দ্রুত ফিরে যান। সাব্বির বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসানের আর্ম বল মিস করে স্টাম্পিং হন। একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকা মেহরব হোসেন মাত্র ৭ রান করে খুশদিল শাহের বলে মিড অফে ক্যাচ দেন।

ইয়াসির আলী ও মিজানুর রহমানও দ্রুত আউট হলে ৬৭ রানের মধ্যে সাত উইকেট হারিয়ে ফেলে রাজশাহী। তবে শেষদিকে অধিনায়ক তাসকিন আহমেদ ও সানজামুল ইসলামের ব্যাটে ভর করে কোনোভাবে একশ ছাড়ায় রাজশাহী। তাসকিন ১৪ রান করে ফিরলেও সানজামুল ২৭ রানে অপরাজিত থেকে রাজশাহীকে ১১৯ রানে পৌঁছে দেন। রংপুরের হয়ে সাইফউদ্দিন তিনটি, রাকিবুল দুটি এবং খুশদিল শাহ দুটি উইকেট নেন।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে রংপুর। প্রথম ওভারেই স্টিভেন টেইলরকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তাসকিন আহমেদের বলে। দ্বিতীয় ওভারে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর বলে শূন্য রানে ফেরেন সাইফ হাসান। তৃতীয় উইকেটে সৌম্য সরকার ব্যাট হাতে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও ১৩ বলে মাত্র ৮ রান করে আউট হন। মৃত্যুঞ্জয়ের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

এরপর রংপুরের ব্যাটিং আরও ধসে পড়ে। শেখ মেহেদী ও নুরুল হাসান সোহান দ্রুত ফিরে গেলে দলের স্কোর দাঁড়ায় ৩০ রানে ৬ উইকেট। এরপর খুশদিল শাহও মোহর শেখ অন্তরের বলে বোল্ড হন। ৪৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে রংপুর রাইডার্স। তখনও টিকেছিলেন সাইফউদ্দিন। শেষ ওভারে তার ব্যাটে ঝড়ও উঠেছিল। কিন্তু তার লড়াইয়ের পরও ১ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রংপুরকে। দল হারলেও তার ব্যাট থেকে এসেছে ৫৪ রান।

রাজশাহীর বিদেশি ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজ জয় আশা করেছিল রংপুর। তবে তাসকিন ও মৃত্যুঞ্জয়ের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে তারা খেই হারিয়েছে। ম্যাচের ফলাফল এখনো অমীমাংসিত থাকলেও রাজশাহীর এই লড়াই যেন বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়া দলের অদম্য আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত