দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুচেভিচ। গতকাল মঙ্গলবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। গত নভেম্বরে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদ শহরের একটি ট্রেন স্টেশনের ছাদ ধসে ১৫ জন নিহত হয়। এর জেরে শুরু হয় বিক্ষোভ, যা একপর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ভুচেভিচ বলেন, পরিস্থিতি যেন আরও জটিল না হয় এবং দেশে নতুন করে যাতে আর কোনো উত্তেজনা তৈরি না হয়Ñ এজন্য পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর আগে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন ভুচেভিচ।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নোভি সাদের মেয়র ছিলেন ভুচেভিচ। তার সময়েই ছাদ ধসে পড়া ওই ট্রেন স্টেশনের সংস্কার করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের দাবি, স্টেশনের সংস্কারের সময় দুর্নীতি না করলে এত মানুষকে প্রাণ হারাতে হতো না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সোমবার দেশটির ছাত্ররা রাজধানী বেলগ্রেডের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করেন। এতে যোগ দেন কৃষকরাও। তারা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করার পরই প্রধানমন্ত্রীর ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়তে থাকে।
এর আগে সোমবার সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুকিক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর সরকারে বড় ধরনের রদবদলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এদিন ছাত্ররা রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রকে সংযোগ করা অটোকোমান্ডা জংশন অবরোধ করেন। এতে করে রাজধানী শহর অচল হয়ে পড়ে।
গত বছর নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিনিয়তই দমনপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। তবে ক্রমেই এ আন্দোলন ১০০টিরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানাতে থাকেন বিচার বিভাগের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
রেলস্টেশনের ছাদ ধসে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার পর দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী গোরান ভেসিক তাৎক্ষণিক পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
