ছাত্রী হেনস্তা ও মার্ক টেম্পারিংসহ নানা অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের (ইবি) উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ওই শিক্ষককে এক বছরের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটি ও ইনক্রিমেন্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবন ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসন এ বিষয়ে পুনরায় পর্যালোচনার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সরে আসেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক যৌন হয়রানিসহ ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেন। এ ছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক, পরিবার ও চেহারা নিয়ে প্রতিনিয়ত বাজে মন্তব্য করেন। অ্যাটেনডেন্সের বিনিময়ে ছাত্রলীগের মিছিলে পাঠানো, কথার অবাধ্য হলে ইন্টারনাল মার্কস কমিয়ে দেওয়া, শিক্ষার্থীদের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারার হুমকি, দাড়ি থাকলে শিবির ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা, ক্লাসের শিডিউল দিয়ে ডেকে এনে জোরপূর্বক তার জন্মদিন পালন করানোর অভিযোগও করেছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ৭ অক্টোবর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী হেনস্তা ও মার্ক টেম্পারিংসহ নানা অভিযোগে অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তার বিরুদ্ধে লিখিতভাবে ভিসির কাছে ২৭টির বেশি অভিযোগ তুলে ধরে মৌখিকভাবে বর্ণনা দেন তারা। অভিযোগ তদন্তে ৮ অক্টোবর পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। পরে ওই শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে কয়েক দফায় আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে গত ২২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৬তম সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেশ করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইবির কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিধিমোতাবেক তাকে বাৎসরিক একটি ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়। পাশাপাশি তাকে ২২ ডিসেম্বর থেকে এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘উপাচার্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি বলেছেন, এ বিষয়ে পুনরায় পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আবেদন দিলে পরবর্তী সিন্ডিকেটে পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে।’
