শীতে পায়ে দুর্গন্ধ হয় অনেকের। জুতা খুললেই পায়ের এমন দুর্গন্ধতে অনেক সময় অন্যদের কাছে বেশ বিব্রত হতে হয়। পছন্দের জুতা পরে কাজে যাওয়া বা ঘুরতে যাওয়া সবই ঠিকমতো হচ্ছে, কিন্তু খুলতে গেলেই বাধে বিপত্তি। আর কোথাও বেড়াতে গেলে জুতা তো খুলতেই হয়। কিন্তু জুতা খুললেই তো সর্বনাশ! পায়ের দুর্গন্ধে আশেপাশের মানুষের কাছে লজ্জিত হতে হবে। তাই মন খারাপ করে ভাবছেন- “কেন আমার পায়েই এমন বিশ্রী দুর্গন্ধ হয়!” অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন।
এই সমস্যা আমাদের যতটা কষ্ট দেয় বা ভাবায়, আসলে এটা তেমন কোনো বড় সমস্যাই না। অল্প কিছু টিপস জানলেই এই বিরক্তিকর সমস্যা থেকে বাঁচা সম্ভব। চলুন জেনে নেই, জুতার দুর্গন্ধ কেন হয় এবং কী করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে যা করতে হবে:
• সৌন্দর্য সাবানের পরিবর্তে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে নিয়মিত পা পরিষ্কার রাখতে হবে
• বাইরে থেকে ফিরে হালকা গরম পানিতে পুদিনাপাতা ও বেকিং সোডা দিয়ে ১০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন, চাইলে সঙ্গে কোনো সুগন্ধি শ্যাম্পু দিয়ে পা ধুয়ে নিতে পারেন
• সপ্তাহে অন্তত দু’দিন স্ক্রাব করে পা পরিষ্কার রাখতে হবে
• এক লিটার হালকা গরম পানিতে আধা কাপ অ্যাপল সিডার ভিনেগার দিয়ে পা ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন
• প্রতিবার পা ধুয়ে পরিষ্কার শুকনো টাওয়াল দিয়ে চেপে চেপে মুছে নিন। ভেজা পায়ে জুতা-মোজা পরবেন না
• দীর্ঘ সময় জুতা মোজা পরে থাকবেন না, সম্ভব হলে অফিসের জন্য আলাদা স্যান্ডেল রাখুন
• প্রতিদিনই ধোয়া-পরিষ্কার সুতির মোজা ব্যবহার করুন
• জুতার ভেতর ট্যালকম পাউডার, বরিক এসিড পাউডার বা দুর্গন্ধনাশক ব্যবহার করতে পারেন
• চামড়া বা কাপড়ের জুতা ব্যবহার করুন। এতে বাইরের বাতাস জুতার ভেতর যাওয়া-আসা করতে জুতা পারবে, ফলে ঘামবে কম
• সপ্তাহে অন্তত একদিন জুতা রোদে দিন। তাই এক জোড়া জুতাই পর পর দুই দিন ব্যবহার না করে কয়েক জোড়া জুতা রাখুন
• শীতের সময়ে পায়ে নিয়মিত ভালোমানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
• জুতার দুর্গন্ধ দূর করতে জুতার মাঝে কয়েকটি কমলার খোসা সারারাত রেখে দিন। কমলার খোসা সমস্ত দুর্গন্ধ শুষে নিবে। ব্যবহারের পূর্বে খোসাগুলো ফেলে ব্যবহার করুন।
• এক টুকরো কাপড়ের ভেতর অথবা পুরানো মোজায় কয়েকটি লবঙ্গ রেখে গিঁট বেঁধে রেখে দিন সারারাত। আপনার জুতার দুর্গন্ধ দূর হবে সহজেই। কয়েকটি লবঙ্গ ফেলে রাখলেও উপকার পাওয়া যায়।
যাদের প্রচুর পা ঘামে, তারা পা ধোয়ার সাথে সাথে পা মুছে ফেলুন। আর ঘাম যেন কম হয় সেজন্য কর্পূরের পানিতে পা কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। এতে পায়ের যে ঘাম হয়, তা আস্তে আস্তে কমে আসবে। উপরের পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি জুতা মোজা পড়ার আগে পা ভালো করে ধুয়ে-মুছে সামান্য বেবি পাউডার ব্যবহার করুন সবসময়। তারপর জুতা মোজা পায়ে দিন। এসব করার পরও যদি পায়ে দুর্গন্ধ হয়, তবে অবশ্যই বিষেশজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।