জাতীয় সংসদ থেকে বিরোধীদলীয় জোটের ওয়াকআউটের পর তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন না করে সরকারি দলের সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বাংলাদেশের জনগণ ভোটের অধিকার সহ তাদের সকল মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ১৪ সালের নির্বাচন ছিল একেবারেই ভোটারবিহীন। ১৮ সালের ভোট ছিল মিডনাইট ইলেকশন। ভোটের আগের রাতেই সব শেষ করে ফেলা হয়েছিল। আর ২৪ সালের নির্বাচন ছিল ‘আমি এবং ডামি’। এই ২৪ সালের নির্বাচনের পর আমাদের ছাত্র, তরুণ, যুব সমাজের ন্যায্য দাবি ছিল একটাই। সেই দাবি নিয়ে তারা যখন মাঠে এসেছিল তখন অতীতের ফ্যাসিবাদী কায়দায় তাদের সেই দাবিকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। যুবসমাজ রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং তাদের উপরে নির্মমভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তুমুল আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদী সরকার ২৪ এর ৫ই আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে গেল ক্ষমতা ছেড়ে। এরপরে বহু প্রত্যাশিত একটি নির্বাচন হলো। একই দিনে আপনারাও সবাই দুইটা ভোট দিয়েছেন। এখন যারা সংসদে আছেন তারাও সবাই দুইটা করে ভোট দিয়েছেন। সবার হাতে দুইটা করে ব্যালট দেওয়া হয়েছিল। এখন যারা সরকারি দলে আছেন তারাও নিয়েছেন। আমরাও নিয়েছি, সাধারণ জনগণও নিয়েছে। সরকারি দলের নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা তিনিও জনগণকে বলেছেন আপনারা গণভোটে হ্যাঁ বলুন। আমরাও জনগণকে বলেছি গণভোটে হ্যাঁ বলুন।
তারা ওয়াদা দিয়েছেন গণভোটে হ্যা বিজয়ী হলে আমরা জনগণের রায় বাস্তবায়ন করবো। এই রায়ের দাবি অনুযায়ী দুইটা শপথ নেওয়ার কথা। একটা সংসদ সদস্যের শপথ আরেকটা সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথ। আমরা বিরোধীদলে ৭৭ জন যারা ছিলাম সবাই দুটো শপথ নিয়েছি। কিন্তু সরকারি দল তারা এই শপথ একটা নিয়েছেন আরেকটা নেন নাই। তারা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সে বিষয়গুলো আগেই আমরা আপনাদের সামনে পরিষ্কার করেছি।
তারা এখনও বলছেন এটা সংবিধানে নাই। তাহলে সংবিধানে এই সরকারেরও প্রভিশন নাই। সংবিধান অনুযায়ী এখন কোনো সরকারি দল নাই। সংবিধান অনুযায়ী এখন কোনো বিরোধী দলও নাই। আপনি সংসদ মানবেন, সরকার মানবেন, জনগণের অভিপ্রায়ের এক অংশ মানবেন, আরেক অংশ মানবেন না। গণভগুটকে অস্বীকার করবেন? বলবেন ৫১ ভাগ মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। ৬৮ ভাগ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ বলেছে। ৫১ ভাগ বড় না ওইটা বড়? এই ৫১ ভাগ তো বাস্তবায়ন হয়েছে। আমরা জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না। জনগণকে আমরা কথা দিয়েছি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। সংসদের ভিতরে আমরা লড়ে যাচ্ছি। আপনার দেখতে পাচ্ছেন আমরা লড়ে যাব এবং একই সাথে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে আমরা লড়ে যাব। এ দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। আমাদের লড়াই চলবে এবং আমরা বিশ্বাস করি কখনো কোন জনপদে জনগণের অভিপ্রায় বা রায় কখনো বৃথা যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ অন্যান্য শরিক দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিতে ৫ প্রস্তাব রাশেদ তিতুমীরের