ইংল্যান্ডের ছোট্ট শহর সেলবি। এই শহরে মুসলমানদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এখানে স্থায়ী কোনো মসজিদ নেই। স্থানীয় এক কমিউনিটি সেন্টারে আদায় করা হয় জুমার নামাজ। গত দুই বছরে জুমার নামাজে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। তাই এখানে দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী একটি মসজিদের অভাব অনুভূত হচ্ছে।
সেলবির কমিউনিটি সেন্টারে জুমার নামাজের ইমামতি করেন মুহাম্মদ ওসমান, যিনি ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির বায়োমেডিকেল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক। তিনি জুমার নামাজ পড়ানোর জন্য প্রতি সপ্তাহে ইয়র্ক থেকে সেলবিতে আসেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সেলবিতে ইসলামি কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি।
মুহাম্মদ ওসমান বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায়টি ছোট হলেও তা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেলবির মানুষ আমাদের খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। আমরা এখানে একটি স্থায়ী মসজিদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি।’
দুই বছর আগে তিনি ইয়র্ক মসজিদের সহযোগিতায় সেলবিতে নামাজের জায়গা ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন। এর আগে সেলবির মুসলমানদের ইয়র্ক বা ডনকাস্টারের মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে হতো। তবে কমিউনিটি সেন্টারে নামাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে উৎসাহ বেড়ে গেছে। মুহাম্মদ ওসমান বলেন, ‘এখানে একটি নির্ধারিত স্থান থাকার ফলে নামাজে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এটি আমাদের সম্প্রদায়ের সবাইকে একীভূত হতে সাহায্য করছে। আমরা চাই না বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে।’
স্থায়ী মসজিদ নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পটি কেবল জুমার নামাজ আয়োজনের একটি পরিসরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। ২০১৬ সালে সেলবিতে আসেন আখতার জামান, পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘জুমার নামাজ আমাদের জন্য বিশাল পরিবর্তন এনেছে। আমরা সপ্তাহে একবার একত্র হতে পারছি, নতুন বন্ধু তৈরি হচ্ছে, সত্যিকার অর্থে আমরা একটি সম্প্রদায়ের মতো বোধ করছি।’
পাশর্^বর্তী এলাকা এগবরোর বাসিন্দা সুমাইয়া আবদুল্লাহ, তিনি আগে ডনকাস্টারের মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যেতেন। সেলবির কমিউনিটি সেন্টারে নামাজ শুরু হওয়ার ফলে তার নামাজ আদায় অনেকটাই সহজ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইবাদতের জন্য সেলবিতে একটি নির্ধারিত জায়গা থাকার ব্যাপারটি আমাদের জীবনে আগের চেয়ে অনেক পার্থক্য তৈরি করেছে। আমরা এমন একটি বৃহত্তর ইবাদতের স্থান চাই, যেখানে নারী-শিশুসহ সকলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে। যেকোনো সম্প্রদায়ের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, তারা সেখানে স্থিতিশীলতা বোধ করে এবং তাদের ধর্মীয় প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ পায়।’
পিস ম্যাগাজিন (এনজি) অবলম্বনে
