চট্টগ্রামে এক সময়ের মূর্তিমান আতংক নাছির উদ্দিন চৌধুরী ওরফে 'শিবির নাছির'। তার বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও অস্ত্র আইনের মামলা ছিল ৩৬টি। ২৬ বছর জেল খেটে গত বছরের ১১ আগস্ট কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।
কিন্ত জেল থেকে বের হওয়ার পর নতুন এক বিড়ম্বনায় পড়েছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের এক সময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ এই সন্ত্রাসী। অভিযোগ, এখনো তার নাম ভাঙিয়ে চট্টগ্রামে চলছে চাঁদাবাজি।
গতকাল বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে নগরের চকবাজার এলাকায় নিজের অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে নাছির অভিযোগ করেন, তার নাম ভাঙিয়ে কে বা কারা চট্টগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার লোকদের ফোন দিয়ে চাঁদা দাবি করছে। এ ঘটনায় তিনি অতিষ্ঠ হয়ে দুই মাস আগে চকবাজার থানায় নিজে সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। কিন্তু পুলিশ কাউকেই চিহ্নিত করতে পারেনি।
নাছির বলেন, 'একটি পক্ষ যারা চাঁদাবাজ এবং সুবিধাবাদী, তারা রাজনৈতিক দলের কেউ নয়, আমার কর্মী বা সমর্থক কেউ নয়, তারা এ কাজগুলো করছে। আমি নিজে পুলিশকে ঘটনা শোনার পর তদন্ত করতে বলেছি। নিজে দুটি ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছি মাদারীপুর, শরীয়তপুর, খাগড়াছড়ি থেকে ফোন দিয়ে আমার নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে।"
নাছির আরও বলেন, "আমি আইন মেনে চলতে চাই। আমি জনগণের সাহায্য চাই। কেউ আমার নামে চাঁদা চাইলে আপনারা আমাকে জানাবেন, পুলিশে অভিযোগ করবেন।"
সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর নাছিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রাবাসে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় রায় হয়। এতে নাছিরের ৫ বছর কারাদণ্ড সাজা হয়েছিল। জানা গেছে, নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে জোড়া খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও অস্ত্র আইনের মামলা ছিল ৩৬টি। একে একে খালাস পেয়েছেন ৩১টি মামলায়। দুটিতে সাজা হলেও আগে কারাভোগে শেষ হয়ে যায়। আছে আর তিনটি মামলা। তিনটি মামলায় জামিন নিয়ে দীর্ঘ ২৬ বছর পর গত বছরের ১১ আগস্ট কারাগার থেকে বের হন নাছির। জামিনে বের হয়ে তিনি চকবাজার এলাকায় এনসি ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হয়েছেন।
কারা সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালের ৯ এপ্রিল থেকে কারাগারে ছিলেন নাছির। দীর্ঘ ২৬ বছর পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়িতে তিনটি হত্যা মামলা বিচারাধীন।
২০০৮ সালে অস্ত্র মামলায় নাসিরের ১০ বছরের সাজা হয়। ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন হত্যা মামলায় খালাস পান নাছির। ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর জমিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরি ও হাটহাজারীর তিন খুনের মামলায় খালাস পান নাছির। ২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর সকালে চট্টগ্রামের জামাল খান রোডে অধ্যক্ষ মুহুরির বাসায় ঢুকে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে। এভাবে ৩১টি মামলায় খালাস পান নাছির।
নাছির চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মন্দাকিনী এলাকার এলাহী বক্সের ছেলে।
নারীসহ দুই জবি শিক্ষার্থীকে মেরে হাসপাতালে পাঠালো ছাত্রদল কর্মী
সাত কলেজে স্নাতকে ভর্তির আবেদন স্থগিত করল ঢাবি