১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, এস আলমের বিরুদ্ধে নারীর মামলা

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৪২ পিএম

চট্টগ্রামে প্রতারণা করে এক নারী উদ্যেক্তার কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে একটি মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলামের আদালতে মামলাটি করেন নাজমে নওরোজ নামে এক ব্যবসায়ী। 

মামলা দায়েরের বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী শুভঙ্কর ঘোষ।

মামলার আরজিতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তার শ্বশুর আলী জহুর, শ্যালিকা জেসমিন আরশেদ, ব্যক্তিগত সহকারী আকিজ উদ্দিন এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক প্রবর্তক মোড় শাখার সাবেক ভাইস  প্রেসডেন্ট মো. জাকারিয়াকে চতুর্থ আসামি করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে বাদী অভিযোগ করেন, তিনি একজন নারী উদ্যোক্তা। ২০১৩ সাল থেকে নওরোজ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তিনি পরিচালনা করেন। সে সুবাদে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের শ্বশুর আলী জহুর ও তার মেয়ে জেসমিন আরশেদের সঙ্গে উনার পরিচয় হয় ও পারিবারিক সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের মাধ্যমে সাইফুল আলম মাসুদের সঙ্গে নওরোজের পরিচয় হয়। সাইফুল ইসলামের মাসুদের নির্দেশে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৪৫ শতাংশ শেয়ার জেসমিন আরশেদকে ও ৪০ শতাংশ শেয়ার তার বাবা আলী জহুরকে দিয়ে নিজে ১৫ শতাংশ নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব নেন।

পরে সাইফুল ইসলাম মাসুদের নির্দেশে নওরোজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বন্ধক রেখে আলী জহুর ও তার মেয়ে জেসমিন আরশেদ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, প্রবর্তক মোড় শাখা থেকে ৪৭ কোটি টাকা ঋণ নেন, যার মধ্যে মাত্র ১৫ কোটি টাকা নওরোজকে দেওয়া হয়। বাকি টাকা তারা আত্মসাৎ করেন। বিভিন্ন সময়ে ওই শাখা থেকে প্রতিষ্ঠানকে বন্ধক রেখে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে হাতিয়ে নেন তারা। নওরোজের চেকে সই নকল করে ব্যাংক থেকে ওই টাকাগুলো নেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব ঋণের টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ২০২৪ সালের ১৫ মে তিনি তার নামে ব্যাংক থেকে তোলা ১০০ কোটি টাকা চাইতে গেলে সাইফুল আলম মাসুদ গালাগালি করেন। ভবিষ্যতে টাকা চাইতে গেলে মামলার অন্য আসামিরা তাকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকিও দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত