সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে ‘রাজনৈতিক ট্যাগ’ দিয়ে অস্বীকার করা দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। তারা বলেছেন, এতে করে প্রকৃত অপরাধীরা দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও বৈষম্যের চালচিত্র উপস্থাপন করে ঐক্য পরিষদ।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কমুার নাথ লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ১৭৪টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা তুলে ধরেন। এরমধ্যে এমনও সহিংসতার ঘটনা রয়েছে যেখানে একই ঘটনায় একাধিক পরিবার আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঐক্য পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সাম্প্রদায়িক ঘটনা তুলে ধরে বলা হয়, ওই সময়ের মধ্যে ২৩টি হত্যা, নারী নির্যাতন/ ধর্ষণ/গণধর্ষণ- ৯টি, উপাসনালয়ে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৬৪টি, কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ১৫টি, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৩৮টি ঘটনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় বাংলাদেশের আপামর সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ট্রমায় আক্রান্ত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে ‘রাজনৈতিক ট্যাগ’ দিয়ে অস্বীকার করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় না আনার কারণে সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তরা দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সংখ্যালঘুরা আরও হুমকির মুখে পড়েছে, পড়ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ এবং ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ বহাল রাখার উপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’কে বাদ দেয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচরণের নামান্তর এবং রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে যে সকল বৈষম্য বিদ্যমান তা অস্বীকার করা, সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহারের পৃষ্ঠপোষকতা করা।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিপংকর ঘোষের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সভাপতিত্রয় অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, ঊষাতন তালুকদার, নির্মল রোজারিও, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষু।
