ব্রিকস অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে (ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, চিন, এবং দক্ষিণ আফ্রিকা) ফের হুঁশিয়ার করেছন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ব্রিকস দেশগুলোকে অবশ্যই বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ভূমিকা বজায় রাখতে হবে বা অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাবশালী মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলার প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করলে তাদের রপ্তানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব কথা জানা যায়।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম "ট্রুথ সোশ্যাল" এ এক পোস্টে এ হুশিয়ারি দেন।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ব্রিকস দেশগুলো ডলার থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা দেখার পর তা বন্ধ করা হয়েছে। আমরা এসব দেশগুলোর কাছ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি চাই যে তারা একটি নতুন ব্রিকস মুদ্রা তৈরি করবে না বা মার্কিন ডলার প্রতিস্থাপন করার জন্য অন্য কোনও মুদ্রা নেবে না। তাদের রপ্তানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তাদের আমেরিকার অর্থনীতি থেকে বিদায় নিতে হবে। তাদের অন্যদেশকে খোঁজে নিতে হবে।
বিস্ময়কর ইউএস ইকোনমিতে বিক্রী করে তারা অন্য একটি চুষক জাতি খুঁজে পেতে পারে যে ব্রিকস মার্কিন ডলারকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিস্থাপন করবে বাণিজ্য, বা অন্য কোথাও, এবং যে কোনও দেশের চেষ্টা করা উচিত শুল্ককে হ্যালো এবং আমেরিকাকে বিদায় বলা উচিত।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর তিনি একই ধরনের পোস্ট করেছিলেন।
জানা যায়, ব্রিকস অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো কয়েক বছর ধরে মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরতা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করে আসছে। ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে ব্রিকস অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্রিকস প্রসারিত হয়েছে।
ব্রিকসের সাধারণ মুদ্রা না থাকলেও তাদের স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য প্রচার করেছে। ২০২৩ সালে ব্রিকসের ১৫তম সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ডলার প্রতিস্থাপনের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ব্রিকসের দেশগুলোকে অবশ্যই জাতীয় মুদ্রায় বন্দোবস্ত প্রসারিত করতে হবে এবং ব্যাংকগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
২০২৪ সালে রাশিয়ায় ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। সেখানে ব্রিকসের সদস্য গুলোদ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহার করার পক্ষে কথা বলে।
ডি-ডলারাইজেশন নিয়ে উদ্বেগ সত্ত্বেও, মার্কিন ডলার বিশ্বের প্রভাবশালী রিজার্ভ মুদ্রা রয়ে গেছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের জিও ইকোনমিক্স সেন্টারের গত বছর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইউরো বা ব্রিকসের অন্তভুক্ত দেশগুলো সফলভাবে ডলারের উপর বিশ্বব্যাপী নির্ভরতা কমাতে পারেনি।
বিশ্ব বাজারে এই আধিপত্য বজায় রাখতে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। লিভারেজ হিসাবে তার শুল্ক ব্যবহার নতুন নয়। ব্রিকসের প্রতি ট্রাম্পের এই হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার মেক্সিকো এবং কানাডার উপর শুল্ক আরোপকে অনুসরণ করে। ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন এবং মাদক পাচার, বিশেষত ফেন্টানাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এই জাতীয় শুল্ক প্রয়োজনীয়।
নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প ভারতকে বাণিজ্য নীতির "খুব বড় অপব্যবহারকারী" বলে অভিহিত করেছিলেন। অন্যান্য ব্রিকস সদস্যদের প্রতি অনুরূপ বক্তব্য প্রসারিত করেছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে অন্যান্য দেশের উপর শুল্ক বৃদ্ধি করলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা এবং শ্রমিকদের জন্য কর কমাতে পারবেন, ফলে কারখানাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে শুল্ক আমেরিকান ভোক্তা এবং ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যে শিল্পগুলো আমদানি করা কাঁচামালের উপর নির্ভর করে।
৭২ দেশ থেকে মেহমান এসেছেন বিশ্ব ইজতেমায়
রিকশা টেনে ৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি
ওয়াশিংটনে বিধ্বস্ত প্লেনের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার, বেঁচে নেই কোনো যাত্রী
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ১০ ফিলিস্তিনি নিহত