আজ জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস। জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই। আমাদের দেশে দিন দিন খাদ্যে ভেজাল বাড়ছে। আমরা প্রতিদিন টাকা দিয়ে খাদ্যের নামে বিষ কিনে খাচ্ছি। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন বিশুদ্ধ, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য। বিশুদ্ধ, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সুস্থ ও সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠনে একান্ত অপরিহার্য। বৈধ পন্থা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। তাতে খাদ্য ঘাটতির অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে দেশ ও জাতি। খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ফসল উৎপন্ন ও সংরক্ষণ করতে হবে। খাদ্য উৎপাদনে পরিকল্পনা ও সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মতো বীজ বপন করতে হবে। তাতে চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য উৎপন্ন হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি পৃথিবীকে স্থাপন করেছেন সৃষ্ট জীবের জন্য। এতে আছে ফলমূল, রসযুক্ত খেজুরবৃক্ষ এবং খোসাবিশিষ্ট দানা ও সুগন্ধি গুল্ম।’ (সুরা আর-রহমান, আয়াত ১১-১২)
এ কারণে দুনিয়াতে যত নবী-রাসুলের আগমন ঘটেছে, তাদের সবাই খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। নিজেরা যেমন কৃষিকাজ করতেন তেমনি খাদ্যশস্য উৎপাদনের মাত্রা কীভাবে বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে তাদের অনুসারীদেরও দিয়েছেন নানা উপদেশ ও পরামর্শ। এমনকি হজরত আদম, ইব্রাহিম, লুত, শুআইব (আ.)-সহ প্রায় সব নবী-রাসুলই কৃষিকাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে খাদ্যের চাহিদা মিটিয়েছেন। বিশেষ করে রাসুল (সা.) নিজ হাতে খেজুরগাছ রোপণ করে খাদ্য উৎপাদনের অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। বৃক্ষরোপণ ও খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে দিয়েছেন যুগের সর্বোত্তম পরামর্শ। খাদ্যের চাহিদা মেটাতে রাসুল (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে কৃষিকাজে উৎসাহিত করেছেন। তিনি উম্মতের জন্য খাদ্যের মজুদ বাড়াতে এবং অভাবমুক্ত রাখতে সব পরিত্যক্ত বা অনাবাদি জমিতে চাষাবাদের কথা তুলে ধরে বলেন, তোমরা জমি আবাদ করো। আর যে ব্যক্তি নিজে জমি আবাদ করতে না পারে, সে যেন ভূমিটিকে তার অন্য ভাইকে দিয়ে দেয়। যাতে সে ওই জমি আবাদ করতে পারে।
