সুরা ইয়াসিন পাঠের উপকারিতা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:২৬ এএম

ইয়াসিন পবিত্র কোরআনের অন্যতম বিশেষ একটি সুরা। এই সুরার অনেক তাৎপর্য ও ফজিলত রয়েছে। পবিত্র কোরআনের হৃদয় বলা এই সুরাকে। এতে রয়েছে ৮৩টি আয়াত, ৫টি রুকু এবং ৭টি মুবিন। কেন সুরা ইয়াসিনকে কোরআনের হৃদয় বলা হয়, এ নিয়ে মুফাসসিরদের নানা বক্তব্য রয়েছে। সুরাটির ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে অনেক বর্ণনা রয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণী তুলে ধরা হলো।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক বস্তুরই একটা হৃদয় থাকে। আর কোরআনের হৃদয় হলো সুরা ইয়াসিন। যে ব্যক্তি সুরা ইয়াসিন একবার পড়বে, মহান আল্লাহ তাকে দশবার পুরো কোরআন পড়ার সওয়াব দান করবেন।’ (তিরমিজি) রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, সুরা ইয়াসিন কোরআনের হৃৎপিণ্ড। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের কল্যাণ লাভের জন্য সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত বা ক্ষমা।

সুরা ইয়াসিন বুঝে পড়ায় রয়েছে অনেক উপকারিতা। এ সুরায় মানুষকে পরকালের প্রস্তুতির দিকে আহ্বান করে। আর পরকাল ভীতিই মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং অবৈধ বাসনা ও হারাম কাজ থেকে বিরত রাখে। দেহের সুস্থতা যেমন অন্তরের সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল তেমনি ইমানের সুস্থতা পরকালের চিন্তার ওপর নির্ভরশীল। যে ব্যক্তি নিয়মিত এ সুরা তেলাওয়াত করে তার প্রতি থাকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর যার প্রতি মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকেন তার ইহকাল ও পরকাল হয় কল্যাণময়। উভয় জগতের কল্যাণের জন্য সুরা ইয়াসিন বুঝে পড়া খুবই জরুরি।

প্রতিদিনের কাজ-কর্মে মানুষ অনেক ভুল-ত্রুটি করে থাকে, যা গুনাহের কাজ। গুনাহ মানুষকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে। আর জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেক আমল করা। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে রাতে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তার ওই রাতের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। (সুনান আদ-দারেমি)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি অভাব-অনটনের সময় সুরা ইয়াসিন পাঠ করে তাহলে তার অভাব দূর হয়, সংসারে শান্তি আসে এবং রিজিকে বরকত হয়। (তাফসিরে মাজহারি) হজরত আতা ইবনে আবি রাবাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শুনেছি, রাসুল বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনের বেলায় সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, তার সব প্রয়োজন পূর্ণ করা হবে। (সুনান আদ-দারেমি)

ইয়াহইয়া ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি সকালে সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-শান্তিতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত সুখে-শান্তিতে থাকবে। (তাফসিরে মাজহারি) তাফসিরে জালালাইনের টীকায় উল্লেখ আছে, যদি কোনো মুসলমানের মৃত্যুর সময় হয়, আর তখন সময় তার পাশে কেউ সুরা ইয়াসিন পাঠ করে, তবে বেহেশত থেকে ফেরেশতা জান্নাতের সুসংবাদ না দেওয়া পর্যন্ত রুহ কবজকারী ফেরেশতা (মালাকুল মাউত) ওই ব্যক্তির রুহ কবজ করেন না। রুহ কবজের সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তি অবস্থান হয় রাইয়্যান নামক জান্নাতে।

হজরত আবু জর (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, মৃত্যুশয্যায় থাকা ব্যক্তির কাছে সুরা ইয়াসিন পাঠ করলে তার মৃত্যুযন্ত্রণা সহজ হয়ে যায়। (তাফসিরে মাজহারি) ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, এটা (সুরা ইয়াসিন) তোমাদের মুমূর্ষু (মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে) ব্যক্তিদের কাছে পাঠ করো। (আবু দাউদ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত প্রতিদিন সকালে অন্তত একবার এ সুরাটি তেলাওয়াত করা। কেননা এ সুরার তেলাওয়াতকারীকে ইহকাল ও পরকালে ব্যাপক কল্যাণ ও শান্তি দান করা হবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সুরা ইয়াসিন কেয়ামতের দিন অধিক সংখ্যক মানুষের জন্য সুপারিশকারী হবে। আর মহান আল্লাহ তা অবশ্যই কবুল করবেন।

আসুন, আমরা নিয়মিত সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করে এর ফজিলতসমূহ যথাযথভাবে অর্জন করি। যা আমাদের দুনিয়ার জীবনকে করবে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল এবং আমাদের জীবন হবে প্রশান্তিময়। আর পরকালে তা হবে আমাদের জন্য সেরা পাথেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত