ছাত্রলীগের ১০ নেতার ৭ দিনের রিমান্ডে

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৪:৩২ পিএম

নরসিংদীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১০ নেতা কর্মীকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন  আদালত। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নরসিংদীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ নিয়াজীর আদালতে এই আদেশ দেয়া হয়।

এর আগে সকালে নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে তাদের কোর্ট হাজতে রাখা হয়। এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের উপস্থিতে আদালত পাড়ায় উত্তেজনা পূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। এর আগে ছাত্রলীগ আদালত চত্বরে জয় বাংলা ও  শেখ হাসিনা ফিরবে স্লোগান দেওয়ায় ছাত্র-জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করে। তারা স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও ছাত্রলীগের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। পরে আদালতে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ও নরসিংদী আইনজীবী সমিতির ভবনে থাকা সাবেক শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের মুরালে ভাঙচুর চালায় তারা।

পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় এনে পুলিশি ও ডিবি পাহাড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীকে আদালতে তোলা হয়। পরে পুলিশ আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ নিয়াজীর আদালত তাদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত থেকে পুনরায কোর্ট হাজতে নেওয়ার সময় পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের আক্রমণের শিকার হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় কয়েকজনকে মারধর করা হয়।

এসময় নরসিংদী আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ ভূইয়ার নেতৃত্বে আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান সরকার, অ্যাডভোকেট মাজেদুল হক রুবেল, অ্যাডভোকেট খন্দকার মেহেদী হাসান, অ্যাডভোকেট  আবদুল কাদের ভূইয়া টিটু, অ্যাডভোকেট জাহিদ হাসান ভূইয়া ও জহিরুল হক জুয়েলসহ আইনজীবীরা রিমান্ড শুনানিতে অংশগ্রহণ করে।

নরসিংদী আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট খন্দকার মেহেদী হাসান বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীকে আদালতে তোলা হয়। আমরা ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তাদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। 

এর আগে সোমবার ভোরে নরসিংদী থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের কাঞ্চন এলাকা থেকে ছাত্রলীগের ১০ নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  পরে তাদের সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ তাদের আদালতে পাঠালে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার নেতারা হলেন- নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার আশ্রাবপুর গির্জাপাড়া গ্রামের আবদুল হাই এর ছেলে শিবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফাজায়েল ভূঁইয়া রয়েল (২৫), পলাশ উপজেলার ছোট তারগাও গ্রামের কাদির আকন্দের ছেলে জিনারদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তারেক আকন্দ (২৮), একই উপজেলার সোকান্দরদি গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), গড়পাড়া গ্রামের জামালের ছেলে পলাশ শিল্পাঞ্চল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হাসান (২৫), কাজীরচর গ্রামের মৃত আখতারুজ্জামানের ছেলে পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য মো. রাজু মিয়া (৩১),

শিবপুর উপজেলার গির্জাপাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে শিবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য ফরহাদ আফ্রাদ (১৮), মনোহরদী পৌরসভার চন্দনবাড়ি গ্রামের রাজু মোল্লার ছেলে মনোহরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য জাহিদ মোল্লা (২৪), নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীর পাঁচদোনা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে মাধবদী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মনির (২৮) ও পলাশ উপজেলার জয়নগর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম(২৬)। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত