আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ইমানে খেলিফের নাম আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আলজেরিয়ান এই বক্সার, যিনি প্যারিস অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন, এবারও আন্তর্জাতিক বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ) বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বাদ পড়েছেন। আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সার্বিয়ার বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন না তিনি।
আইবিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস রবার্টস নিশ্চিত করেছেন যে খেলিফ সংস্থার নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে পারেননি, তাই তাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। মূলত, আইবিএ-র নিয়ম অনুযায়ী প্রতিযোগীদের নির্দিষ্ট কিছু শারীরবৃত্তীয় মানদণ্ড পূরণ করতে হয়, যেখানে খেলিফের অবস্থান বেমানান বলে দাবি সংস্থাটির।
এটি প্রথমবার নয়, দুহাজার তেইশ সালেও উজবেকিস্তানের তাসখন্দে অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে একই কারণে তাকে প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখনই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয় এবং অলিম্পিক পর্যন্ত তা গড়ায়।
তবে অলিম্পিকে তিনি অংশ নিতে পেরেছিলেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)-র হস্তক্ষেপে। আইওসি তখন আইবিএ-র থেকে অলিম্পিক বক্সিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, কারণ বক্সিংয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতা ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে আইবিএ দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে ছিল।
আইবিএ-র প্রধান অভিযোগ, খেলিফের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি এবং তার ক্রোমোজোমাল গঠন এক্সওয়াই হলেও তিনি বাহ্যিকভাবে নারীদের মতোই। চিকিৎসা পরিভাষায় এটি সোয়াইয়ার সিনড্রোম নামে পরিচিত। আইবিএ মনে করে, এতে তার অন্যান্য প্রতিযোগীদের তুলনায় বাড়তি শারীরিক সক্ষমতা থাকতে পারে, যা খেলার নীতিগত ন্যায্যতাকে ব্যাহত করতে পারে।
কিন্তু আইওসি এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, খেলিফ শারীরিকভাবে একজন নারী এবং শুধুমাত্র জৈবিক কারণে তাকে খেলা থেকে সরিয়ে দেওয়া অনৈতিক।
প্যারিস অলিম্পিকেও খেলিফকে ঘিরে বিতর্ক কম হয়নি। ইতালির বক্সার অ্যাঞ্জেলা কারিনি, যিনি খেলিফের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন, মাত্র ৪৬ সেকেন্ডের মাথায় রিং ছেড়ে চলে যান। পরে তিনি দাবি করেন, খেলিফের ঘুষিতে তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেন, যা তাকে ম্যাচ থেকে সরে যেতে বাধ্য করে।
পরবর্তীতে কারিনি ক্ষমা চাইলেও, ঘটনাটি লিঙ্গ পরিচয়ের বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ফরাসি সাংবাদিক জাফার আইত আওদিয়া একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন, যেখানে দাবি করা হয় যে খেলিফের শরীরে 'অভ্যন্তরীণ টেস্টিস' রয়েছে। যদিও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি, তবে খেলিফ এই প্রতিবেদনকে গোপন চিকিৎসা নথি ফাঁস করার অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এই ইস্যুতে কিংবদন্তি টেনিস খেলোয়াড় মার্টিনা সিতোলিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি আইওসি-এর সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে লিখেছেন, 'নারীদের জন্য নির্ধারিত ক্রীড়াক্ষেত্র রক্ষা করা উচিত, এটি স্পষ্ট বিষয় হওয়া দরকার।'
নাভ্রাতিলোভা কেবল ইমান খেলিফ নয়, বরং জাম্বিয়ান নারী ফুটবলার বারবারা বান্দাসহ আরও কয়েকজন ক্রীড়াবিদের প্রসঙ্গও টেনে আনেন, যাদের বিরুদ্ধে লিঙ্গ পরিচয়জনিত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ইমান খেলিফের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হওয়া ক্রীড়াঙ্গনে লিঙ্গ পরিচয় ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একদিকে আইবিএ ক্রীড়ার শুদ্ধতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে আইওসি খেলোয়াড়দের অধিকার সংরক্ষণের দাবি তুলেছে।
এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয় এবং ইমানে খেলিফের ক্রীড়া ক্যারিয়ার কোন পথে এগোয়।
বাফুফে সভাপতির হস্তক্ষেপেও মত বদলাননি নারী ফুটবলাররা
রিয়ালের মুখোমুখি হওয়ার আগে জয় পেল ম্যানসিটি
কোহলি ফিরছেন মাঠে, খুশিতে স্কুটি চালালেন মুম্বাইয়ের সড়কে!