দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির (আপ) পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে। ২৭ বছর পর রাজধানীর রাজ্যসভার ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী দিল্লি বিধানসভার ৭০ আসনের মধ্যে ৪৮টি জিতেছে বিজেপি। আর আপ জিতেছে ২২ আসনে। আগের দুই নির্বাচনের মতো এবারও কংগ্রেসের আসন শূন্য। দিল্লি বিধানসভায় কংগ্রেস যে হারের হ্যাটট্রিক করবে, সে বিষয়ে কারও মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না। এবারও যে তারা একটি আসনও জিততে পারবে না, তা ভাবা হয়নি।
কংগ্রেস ভেবেছিল, তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ১০ শতাংশের বেশি হবে। ২০২০ সালে তারা পেয়েছিল ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ ভোট। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বেলা ৩টা পর্যন্ত তাদের পাওয়া ভোটের হার সাড়ে ৬ শতাংশের মতো। অর্থাৎ পাঁচ বছর আগের তুলনায় এবার কংগ্রেসের ভোটের হার ২ শতাংশ বেড়েছে। সংখ্যায় তা নগণ্য হলেও বেশ কিছু আসনে কংগ্রেস হয়ে দাঁড়িয়েছেন আপ প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ।
আপ ও কংগ্রেস বিজেপিবিরোধী জোটে এক হলেও দিল্লির বিধানসভায় বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বী তারা। সে কারণে অনেকে আপের ভরাডুবির জন্য কংগ্রেসকে দুষলেও সে দায় নিচ্ছে না দলটি। যেমন জম্ম-–কাশ্মীরের শরিক ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘নিজেদের মধ্যে আরও লড়ুন।’ সমাজবাদী পার্টির নেতা রামগোপাল যাদব বলেছেন, কংগ্রেস ভোট কেটে বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।
তবে কংগ্রেস তার ভূমিকায় মোটেই লজ্জিত নয়। বরং তারা বলেছে, আপ হেরেছে তাদের কৃতকর্মের দোষে। কংগ্রেস মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বলেছেন, আপকে জেতানোর দায় ও দায়িত্ব কংগ্রেসের নয়। দিল্লি এমনই একটা রাজ্য, যেখানে কংগ্রেস টানা ১৫ বছর শাসন করেছে। সেই রাজ্যে হারানো জমি কংগ্রেস অবশ্যই খুঁজবে। তিনি বলেন, আপকে জেতানো কংগ্রেসের কাজ নয়। কংগ্রেসের লক্ষ্য, সংগঠন শক্তিশালী করে হারানো সমর্থন ফিরে পাওয়া।
কংগ্রেসকে দুর্বল করেই দিল্লিতে আপের উত্থান। দলিত, অনগ্রসর, তফসিল জাতি, সংখ্যালঘু ও ঝু¹ি ঝোপড়িবাসীর মধ্যে একদা কংগ্রেসের যে সমর্থন ছিল, আপ সেখানেই ঘা মেরে মাথা তুলেছে। সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বলেছেন, যে যুক্তিতে কংগ্রেস আজ দিল্লিতে লড়াই করেছে, আপ নেতৃত্বও অতীতে সেই যুক্তিতেই লড়াই করেছিল গোয়া, হরিয়ানা, গুজরাট, উত্তরাখন্ডে। আজ যারা কংগ্রেসকে দায়ী করছেন, তখন তারা কিন্তু আপকে অপরাধীর কাঠগড়ায় তোলেননি।
তবে মাঠের চিত্র বলছে, গত ভোটে ৬২ আসনে জয় পাওয়া আপের এবার ভরাডুবিতে কংগ্রেসের প্রভাব আছে। যেমন নিউ দিল্লি কেন্দ্রে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ভোট পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯২৫টি। তাকে হারিয়েছেন বিজেপির প্রভেশ সিং ভার্মা ৩০ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে। অর্থাৎ জয়ের ব্যবধান ৪ হাজার ৯৯ ভোট। এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের ছেলে সন্দীপ দীক্ষিত। তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৫০৪ ভোট। কংগ্রেস ও আপ জোটবদ্ধ থাকলে ও এই ভোট কেজরিওয়াল পেলে বিজেপিকে হারিয়ে তিনি জিততে পারতেন ৪০৫ ভোটে। কেজরিওয়ালের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া হেরেছেন ৬০০ ভোটের ব্যবধানে। সেখানেও কংগ্রেস প্রার্থী এর বেশি ভোট পেয়েছেন। একই ছবি দেখা গেছে বাদলি, নাংলোই জাট, মাদিপুর, রোহিনী ও দ্বারকা বিধানসভা কেন্দ্রেও। আপ ও কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি।
