কসোভোতে পঞ্চম পার্লামেন্ট নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রী কুর্তির অগ্নিপরীক্ষা

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৫:৩২ পিএম

২০০৮ সালে স্বাধীনতা ঘোষণার পর আজ কসোভোতে পঞ্চম সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির বিরুদ্ধে গণভোট বলে মনে করছেন অনেকে। চার বছর আগে ক্ষমতাসীন দল বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির জন্য এ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুর্তি প্রতিবেশী সার্বিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তার পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে।

বার্তাসংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ভোটে ২৬টি রাজনৈতিক দলের মধ্য থেকে ১২০ জন আইনপ্রণেতা এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে প্রবাসীসহ যোগ্য ভোটাররা ভোট দেবেন। সার্বদের জন্য ১০টি ও সংখ্যালঘুদের জন্য আরও ১০টি আসন সংরক্ষিত।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৯৯৮-৯৯ সালের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কসোভোতে এ ধরনের নবম ভোট, যা সার্বিয়ান বাহিনীকে স্ব-ঘোষিত প্রজাতন্ত্র থেকে বিতাড়িত করেছিল।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, কুর্তির বামপন্থী ভেতেভেন্দোজে বা সেলফ-ডিটারমিনেশন মুভমেন্ট পার্টি এককভাবে সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি তিনি মন্ত্রিসভা গঠনে ব্যর্থ হন তবে অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর এ পদে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন— ডেমোক্রেটিক পার্টি অব কসোভো (পিডিকে), যার প্রধান নেতারা হেগ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং প্রজাতন্ত্রের পুরাতন দল ডেমোক্রেটিক লীগ অব কসোভো (এলডিকে)।

এই ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে প্রতিবেশী সার্বিয়ার সঙ্গে স্থগিত স্বাভাবিকীকরণ আলোচনায় কসোভোর পক্ষে কে নেতৃত্ব দেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় উভয় পক্ষকে ব্লকে যোগদানের কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

গত বছর মন্ত্রিসভার কিছু পদক্ষেপ যেমন সার্বিয়ান দিনার নিষিদ্ধ এবং সার্বিয়া থেকে কসোভোর নাগরিকদের স্থানান্তর নিয়ে পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে কুর্তির মতবিরোধ তৈরি হয়। ওয়াশিংটন, ব্রাসেলস এবং ন্যাটো জাতিগত সংঘাত পুনরুজ্জীবিত হওয়ার আশঙ্কায় প্রিস্টিনাকে একতরফা পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় বিরোধী দলগুলো সরকারি বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

পিডিকের বেদরি হামজা বলেন, ‘প্রতিটি শহর, প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে।’ এছাড়া এলডিকের লুমির আবদিশিকু বলেন, ‘কসোভোতে উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা দিতে আমাদের বিকল্প রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ১.৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার কসোভো ইউরোপের দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি, যার বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন মাথাপিছু ৬,০০০ ইউরোরও কম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত