মুমিন সর্বদা মহান আল্লাহকে স্মরণ করে। মুমিনের সবকিছু মহান আল্লাহর উদ্দেশেই নিবেদিত। মুমিন যখন কোনো কাজ শুরু করে তখন মহান আল্লাহর নামে শুরু। যখন কাজ শেষ করে তখন মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে। এটাই ইসলামের শিক্ষা। আমরা যখন কোনো কাজ শুরু করব তখন কীভাবে মহান আল্লাহকে স্মরণ করব? মহান আল্লাহকে স্মরণ করার উপায় হলো, কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলা। আর কোনো কাজ ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করা মানে ওই কাজটি মহান আল্লাহর নাম দিয়ে শুরু করা। এতে মহান আল্লাহ ওই কাজের ওপর রহমত ও বরকত দান করেন।
হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেকোনো কাজ বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করতেন। পবিত্র কোরআনের সুরা তওবা ছাড়া সব সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ লিপিবদ্ধ রয়েছে। এ ছাড়া হজরত নুহ (আ.)-কে জাহাজে আরোহণের আদেশ দিয়ে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তিনি বললেন, তোমরা এতে আরোহণ করো আল্লাহর নামে। এর চলা ও থামার নিয়ন্ত্রক একমাত্র আল্লাহ।’ (সুরা হুদ, আয়াত ৪১) ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সুরা নামলের ৩০ নম্বর আয়াতের একটি অংশ। যখন হজরত সুলায়মান আলাইহি ওয়া সাল্লাম রানী বিলকিসকে চিঠি লিখছিলেন তখন তিনি ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়ে চিঠিটি লেখা শুরু করেছিলেন। সচেতনতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কোনো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বললে অনেক সুফল পাওয়া যায়। এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।
এক. প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুফল হলো, বিসমিল্লাহ বলার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে জঘন্য বা খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে। কারণ যখন আল্লাহর নাম নিয়ে কাজ শুরু করা হয়, তখন মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তার কাজের প্রতি এক ধরনের সচেতনতা অনুভব করে। এই সচেতনতা তাকে চিন্তা করতে বাধ্য করে যে, ‘আমি যে কাজটি করছি, তা কি সঠিক? এটি আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী কি না? আমি কি ন্যায়সংগত কাজ করছি?’ বিসমিল্লাহ বলার মাধ্যমে তার মনে আল্লাহর ভয় চলে আসে। অর্থাৎ সে জানে যে আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং তার কাছেই সবকিছুর হিসাব দিতে হবে। এই চিন্তা তার মনে নৈতিক দায়িত্ব এবং সততার অনুভূতি তৈরি করে, যা তাকে খারাপ বা অমানবিক কাজ থেকে দূরে রাখে।
দুই. সবচেয়ে নির্ভুল বিন্দু থেকে কাজ শুরু করার সুযোগ পায়। বিসমিল্লাহ বলে সৎ ও বৈধ কাজ শুরু করার ফলে মানুষের মনোভাব ও মানসিকতা একটি সঠিক দৃষ্টিকোণে রূপান্তরিত হয়। যখন কেউ আল্লাহর নাম নিয়ে তার কাজ শুরু করে, তখন তার মনের মধ্যে একটি আধ্যাত্মিক শান্তি এবং বিশ্বাস তৈরি হয়, যা তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। এই বিশ্বাস তাকে প্রতিটি কাজের শুরুতে আল্লাহর সাহায্য ও বরকত কামনা করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং তার কাজের প্রতি একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। এতে করে সে সব সময় সৎ ও সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে এবং তার মানসিকতা হয় সৎ। আল্লাহর নাম নিয়ে কাজ শুরু করলে ব্যক্তি নিজের কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। কারণ সে জানে যে, সে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে কাজ শুরু করছে। এর ফলে, সে নিজের কাজকে আরও খোলামেলা এবং সততার সঙ্গে সম্পন্ন করবে, আর সেই কাজের মধ্যে কোনো ধরনের অশুদ্ধতা বা জালিয়াতি থাকবে না।
তিন. বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করার সবচেয়ে বড় সুফল হলো, যে কাজের আগে বিসমিল্লাহ বলা হয় সে কাজে আল্লাহর সাহায্য, সমর্থন ও সহায়তা তার সহযোগী হবে। তার চেষ্টায় বরকত হবে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘যে কাজ বিসমিল্লাহ ছাড়া আরম্ভ করা হয়, সে কাজে কোনো বরকত থাকে না’ (আবু দাউদ) বিসমিল্লাহ বলার কারণে তাকে শয়তানের বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে রাখে। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, যখন বিসমিল্লাহ নাজিল হয় তখন মেঘমালা পূর্বদিকে দৌড়াতে লাগল, সাগরগুলো উত্তাল অবস্থায় ছিল, সব প্রাণী নিস্তব্ধতায় তা শুনছিল, শয়তানকে দূরে বিতাড়িত করা হয়েছিল। তখন আল্লাহতায়ালা নিজ ইজ্জতের কসম খেয়ে বলেছিলেন, ‘যে জিনিসের ওপর বিসমিল্লাহ পড়া হবে, আমি সেই জিনিসে অবশ্যই বরকত দান করব।’ (তাফরিরে তাবারি ১/৫০)
