সৌন্দর্যের প্রতি প্রচণ্ড গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। মানবজীবনের প্রতিটি দিককে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা ইসলামের শিক্ষা। আর মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক রূপে নয়, বরং তার হৃদয়ের পবিত্রতা ও চরিত্রে নিহিত। ঠিক তেমনি ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, একটি শুদ্ধ হৃদয়ই মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রধান মাধ্যম। এই পরিশুদ্ধির মূল চাবিকাঠি হলো তাকওয়া, যা মানুষের অন্তরকে কলুষমুক্ত করে, পাপ থেকে দূরে রাখে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে।
তাকওয়া মুমিনের অপরিহার্য একটি গুণ। তাকওয়া আরবি শব্দ। এর অর্থ সুরক্ষা বা রক্ষা পাওয়া। ইসলামি পরিভাষায় তাকওয়া বলতে বোঝায় মহান আল্লাহকে ভয় করে তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং পাপ থেকে দূরে থাকা। এটি এমন এক অবস্থা, যেখানে একজন মুমিন সবসময় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা চিন্তা করে এবং তার নাফরমানি করা থেকে বিরত থাকে।
তাকওয়ার গুরুত্ব : মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বারবার তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সে, যে সর্বাধিক মুত্তাকি (পরহেজগার)।’ (সুরা হুজুরাত ১৩) অন্য আয়াতে তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করবে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুরা তালাক ২-৩) হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক রূপ ও ধন-সম্পদ দেখেন না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও কর্ম দেখে থাকেন। (সহিহ মুসলিম)
তাকওয়া অবলম্বনের উপায় : নিয়মিত ইবাদত করা। নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে অন্তর আলোকিত হয়। পাপ ও হারাম কাজ থেকে দূরে থাকা। তাকওয়া হৃদয়কে শুদ্ধ করে এবং হারাম থেকে বিরত রাখে। অহংকার ও হিংসা পরিহার করা। বিনয়ী ও উদার হলে হৃদয় কোমল হয়। সৎ ও তাকওয়াবান মানুষের সংস্পর্শে থাকা। ভালো সঙ্গ একজন মানুষকে তাকওয়ার পথে এগিয়ে নেয়। মহান আল্লাহর ওপর নির্ভর করা। যেকোনো পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। রোজা রাখার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন হয়। মহান আল্লাহ সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের জন্য রোজার বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদের দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ প্রতি বছর রমজান আসে, আমাদের তাকওয়ার বার্তা দিয়ে যায়। তাকওয়া অনুশীলনের সবচেয়ে উত্তম সময় রমজান মাস। এ মাসে সহজেই আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি। এ সময় দ্বীনি পরিবেশ বজায় থাকে। তবে দিনে রোজা রাখা বা রাত জেগে ইবাদত করার নাম তাকওয়া নয়; বরং তাকওয়া হলো, মহান আল্লাহ যা ফরজ করেছেন তা মানা এবং যা হারাম করেছেন তা থেকে দূরে থাকা।
চলতি শাবান মাসের পরই আসছে পবিত্র রমজান মাস। তাই মহান আল্লাহর ভয়ে সব ধরনের অন্যায়, অত্যাচার ও পাপাচার বর্জন করে কোরআন ও সুন্নতের নিয়ম অনুযায়ী জীবন পরিচালনার প্রচেষ্টা চালাতে হবে এখন থেকেই। তাকওয়া কেবল বাহ্যিক আচরণের পরিবর্তন নয়, বরং এটি হৃদয়ের গভীরতম পরিবর্তন ঘটায়। রোজা মানুষকে পাপ থেকে রক্ষা করে, চরিত্রকে উন্নত করে এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ তৈরি করে।
এখন আমাদের করণীয় হলো, চলতি শাবান মাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো। এই মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা, নফল নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত করা এবং সাধ্য অনুযায়ী দান-সদকা করা। যাতে রমজান মাসে আরও ব্যাপকভাবে আমল করা যায়।
