বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ওপেনার জাভেদ ওমর বেলিম দীর্ঘদিন ধরেই শিশু-কিশোরদের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখছিলেন। এবার তা বাস্তবায়ন হলো ‘জাভেদ ওমর ইনিশিয়েটিভ’ নামে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খেলার সরঞ্জাম প্রদান ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ করবে এই উদ্যোগ। রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্যোগের উদ্বোধন করেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে িি.ি লধাবফড়সবৎ.পড়স ওয়েবসাইটেরও উদ্বোধন করা হয়, যেখানে জাভেদ ওমরের খেলোয়াড়ি জীবন ও তার নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
জাভেদ ওমর জানান, খেলোয়াড়ি জীবনের একপর্যায়ে ডিপ্রেশনে ভুগেছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারেন, শিশু-কিশোরদের জন্য মানসিক সহায়তা কতটা জরুরি। তিনি বলেন, ‘কিছু ব্যাপার নিয়ে আমি নিজেই খুব ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। তখন বুঝেছি, আমার মতো কেউ যদি এত ডাউন হয়ে যায়, তাহলে ছোটরা তো আরও বেশি বিপদে পড়তে পারে। কয়েক বছর আগে আমাদের একজন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটার আত্মহত্যা করেছিল, যা খুবই দুঃখজনক।’
জাভেদের ভাষায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাট-বল যা দরকার, তা দেওয়া হবে। আমি একটা এতিমখানায় খাবার দিই, দেখলাম সামনে খোলা মাঠ। তখনই ভাবলাম, ওদের যদি খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়া যায়, তাহলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও কাজ করব।’
এই উদ্যোগের সহযোগিতা করছে ওষুধ শিল্পের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘দ্য প্লাস্টিসিটি’। এই প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আবার জাভেদ নিজেও।
ক্রীড়া সাংবাদিক সৈয়দ আবিদ হোসেন সামির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ফারুক আহমেদ। আরও বক্তব্য দেন ‘দ্য প্লাস্টিসিটি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, মোহাম্মদ আশরাফুল, হকির সাবেক তারকা মামুনর রশিদ, সাবেক ক্রিকেটার হাসিবুল হোসেন শান্ত, সাংবাদিক উৎপল শুভ্র, মোস্তফা মামুন ও এমএম কায়সার।
অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘জাভেদের চিন্তা আমার চিন্তার কাছাকাছি। আমাদের মধ্যে অনেক খেলোয়াড়, কিউরেটর, আম্পায়ার, সাংবাদিক আছেন, যারা খুব খারাপ অবস্থায় আছেন। আমি চেষ্টা করছি জাভেদের মতোই তাদের জন্য কিছু করতে। তাদের সাহায্য করতে আমরা ক্রিকেট বোর্ডেও একই রকম ফাউন্ডেশনের কথা চিন্তা করছি।’
জাভেদের উদ্যোগের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে ফারুক আহমেদ বলেছেন, ‘আপনার এ নতুন যাত্রায় একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমাকে আপনি পাবেন। আমরা সবাই চেষ্টা করব যেন এটা থেমে না যায়।’
জাভেদের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনও উপস্থিত ছিলেন এই উদ্যোগের সূচনালগ্নে। শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মহৎ উদ্যোগ। জাভেদ ওমর তো আমাদের বন্ধু। ও যাদের নিয়ে কাজ করছে, যে উদ্যোগটা নিয়েছে, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আন্ডার প্রিভিলেজড বাচ্চা যারা, ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাদের খেলাধুলার সরঞ্জাম দেওয়া গেলে আরও বড় পরিসরে কিছু করা যাবে।’
জাভেদের আরেক সতীর্থ ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, ‘ওনার এই উদ্যোগটা অনেক মহান। আমার মনে হয়, সবাই এটার পাশে থাকবে।’
জাতীয় দলে খেলার সময় থেকেই ছোট ছোট সামাজিক কাজে যুক্ত ছিলেন জাভেদ ওমর। কানাডায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ থাকলেও দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চান বলেই দেশে থেকে গেছেন। এবার ‘জাভেদ ওমর ইনিশিয়েটিভ’-এর মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণে নেমেছেন তিনি। এটি শুধু সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াবে না, বরং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও কাজ করবে, যা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
