চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাটে আট দল সরাসরি গেছে শেষ ষোলো রাউন্ডে। বাকি আট দল নির্ধারণে পয়েন্ট টেবিলের পরের ১৬ দল নিয়ে প্লে-অফ রাউন্ড শুরু হচ্ছে আজ। এই পর্বটি দুই লেগে বিভক্ত। আজ প্রথম লেগের চারটি ম্যাচ আছে। তবে যে লড়াইয়ে নজর বেশি ফুটবল ভক্তদের সেটি ম্যানচেস্টার সিটি বনাম রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ।
চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। আর ‘সিটি ফুটবল গ্রুপের’ অধীনে আসার পর থেকে ম্যানসিটি এই টুর্নামেন্টে ক্রমেই বড় দল হয়ে উঠেছে। পেপ গার্দিওলার কোচিংয়ে একবার (২০২৩) শিরোপাও জিতেছে তারা। আজ প্রথম লেগ হবে সিটির মাঠ ইতিহাদে। চ্যাম্পিয়নস লিগে আগের তিন মৌসুমেও এই দুটি দল মুখোমুখি হয়েছে নকআউট পর্বে। তবে গেল তিন মৌসুমে কোনোবারই সিটির মাঠে জিততে পারেনি রিয়াল। আরও স্পষ্ট করে বললে চ্যাম্পিয়নস লিগে কখনোই সিটির মাঠে জিততে পারেনি রিয়াল।
২০২১-২২ মৌসুমে সেমিফাইনালে প্রথম লেগে সিটি নিজেদের মাঠে জিতেছিল ৪-৩ গোলে। দ্বিতীয় লেগে রিয়াল নিজেদের মাঠে জেতে ৩-১ গোলে। ২০২২-২৩ মৌসুমেও এ দুই দল মুখোমুখি হয় সেমিতে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর দ্বিতীয় লেগে সিটি ইতিহাদে জেতে ৪-০ গোলে। গেল মৌসুমে মুখোমুখি হয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। গেলবার দুই লেগই ড্র হয় (বার্নাব্যুতে ৩-৩ ও ইতিহাদে ১-১)। পরে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জেতে রিয়াল। সাম্প্রতিক সময়ে এ দুই দলের ম্যাচের ফল দেখে বোঝাই যাচ্ছে দুই দলের মধ্যে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে।
এ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ম্যানসিটি হোঁচট খেয়েছে বেশ কয়েকবার (পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে)। চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে তারা আট ম্যাচের তিনটিতে হারে, ড্র করে দুটি। ১১ পয়েন্ট নিয়ে ২২তম স্থানে থেকে শেষ করে গার্দিওলার দল। কার্লো আনচেলত্তির দল রিয়াল মাদ্রিদও হেরেছে তিনটি। তবে বাকি পাঁচটি জিতে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ১১তম স্থানে শেষ করে লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে লা লিগায় শীর্ষে আছে রিয়াল।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ম্যাচটি খেলার সময় সতর্ক থাকতে হবে তাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে। জুড বেলিংহ্যাম, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, চুয়ামেনি, লুকা মদ্রিচ ও এনদ্রিক যদি সিটির বিপক্ষে আজ খেলতে নেমে হলুদ কার্ড পান তবে বার্নাব্যুতে দ্বিতীয় লেগ মিস করবেন তারা। রিয়ালের ডিফেন্স লাইনে নেই পরীক্ষিতদের অনেকে। ইনজুরির কারণেই এমনটি হয়েছে। সবশেষ মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়াল এক পয়েন্ট পায় (১-১ গোলের ড্রতে)। তাই প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচটি সহজ হবে না রিয়ালের জন্য।
ম্যানসিটিও খুব একটা স্বস্তিতে নেই। এফএ কাপে ওরিয়েন্টের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতলেও তার আগে প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে ৫-১ গোলে হারে সিটিজেনরা। ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত নিজেদের মাঠে খেলা কোনো ম্যাচেই হারেনি সিটি। রিয়াল কি পারবে তাদের হারাতে!
আজ আছে আরও তিনটি ম্যাচ। পিএসজি মুখোমুখি হবে স্বদেশি ক্লাব ব্রেস্তের বিপক্ষে। খেলা ব্রেস্তের মাঠে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচে পিএসজিকে হারাতে পারেনি ব্রেস্ত। এ মৌসুমে লিগ ম্যাচে ব্রেস্তের মাঠে পিএসজি জিতেছিল ৫-২ গোলে। তাই লুইস এনরিকের দল ফেবারিট ম্যাচটিতে। এ ছাড়া ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্তাস খেলবে পিএসভি আইনদোভেনের বিপক্ষে। পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং সিটি মুখোমুখি হবে জার্মান দল বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের। ডর্টমুন্ড ও সিটি সবশেষ চার মুখোমুখিতে তিনটিতে জিতেছে ডর্টমুন্ড। তবে সবশেষ ২০২১ সালের নভেম্বরে নিজেদের মাঠে স্পোর্টিং ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ডর্টমুন্ডকে।
