জামালপুরে জুলাই বিপ্লবে শহীদদের স্মৃতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মঞ্চে দেখা গেছে নাজমুল হক বাবু নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে। একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা রুহুল আমিন মিলন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাত শহীদ পিংকি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতিতে তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ছবি এবং ভিডিওতে দেখা যায়, হাডুডু খেলার অতিথি মঞ্চের প্রথম সারিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাত শহীদ পিংকি, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন মিলন এবং তাদের পাশে বসে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও মেষ্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক বাবু।
এছাড়াও বক্তব্যে বাবুকে বলতে শোনা যায়, বিএনপির নেতা মিলনকে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চান তিনি। পুরো বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন মিলন বলেন, আমি ওই অনুষ্ঠানের কোনো অতিথি ছিলাম না। আমার এলাকা তাই সেখানে গিয়েছিলাম। এখন কে, কোথায়, কার সঙ্গে বসবে এটা তো আমি জানি না। অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমি জেল খেটেছি, মামলার আসামি হয়েছি, বাড়িতে থাকতে পারিনি। তাই এখানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করার কোনো সুযোগ নেই।
জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও চেয়ারম্যান নাজমুল হক বাবু বলেন, আমি স্বতন্ত্র থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছি। জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য পদে আমাকে রাখা হয়েছিল। আমি তখন জানতাম না। জানার পরপরই আমি সেই সময়ে এই পদ প্রত্যাহারে চিঠি দিয়েছিলাম। একটি পক্ষ আমার ক্ষতি করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আমার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করছে।
বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি সুমনুল করিম বলেন, খেলা বা অনুষ্ঠানটি আমাদের বিদ্যালয়ে মাঠে হওয়ায় আমাকে অনুষ্ঠানের সভাপতি করা হয়। কিন্তু মূলত খেলাটি পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন, উদ্বোধন করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলন আর সঞ্চালনা করেছেন ছাত্র আন্দেোলনের শাকিল নামে একটি ছেলে। এখন বাবু চেয়ারম্যান কীভাবে সেখানে গিয়ে বক্তব্য দিলো, এই বিষয়টি আমি জানি না। কারণ, আমি আমার স্বাগত বক্তব্য দিয়ে আমার অফিস রুমে চলে গিয়েছিলাম।
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাত শহীদ পিংকি বলেন, তিনি যে আওয়ামী লীগ নেতা, সেই বিষয়টি আমি একদমই জানতাম না। যেহেতু আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি, তাই তার সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা নেই। আমি কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তারা আমাকে বলেছে তিনি স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করেছে। আর একটি বিষয় হচ্ছে, আমি ওই অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলাম। কিন্তু তাকে দাওয়াত করা হয়েছিল কিনা, সেই বিষয়টি আমি নিশ্চিত না। এরপর থেকে তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবো।
