নরসিংদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার কলেজের কার্যক্রম বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের অন্যত্র শিক্ষাদানের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন নরসিংদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানচলাচল বন্ধ থাকে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে নরসিংদীর সাহেপ্রতাপে সড়ক অবরোধের ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার অঞ্চল দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকেল ৪টায় জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ছেড়ে যান।
শিক্ষর্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নরসিংদীর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বস্ত্র অধিদপ্তরের অধীনে নিয়ে পাঠদানের দাবি করা হচ্ছে। সোমবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নরসিংদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কার্যক্রমকে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি এই কলেজের শিক্ষার্থীদের টাঙ্গাইলের কালীহাতী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে স্থানান্তরে পরিকল্পনা করেছে। শিক্ষার্থীরা এটা নিজেদের জন্য অপমানজনক বলছেন। বর্তমানে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করে নরসিংদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেকে তাঁত বোর্ড থেকে পরিবর্তন করে বস্ত্র অধিদপ্তরের অধিভুক্ত করে পরিচালনা করতে হবে।
নরসিংদীর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, আমাদের দাবি ছিল বস্ত্র অধিদপ্তরের অধীনে আমাদের স্বতন্ত্র কলেজ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু তারা তাদের দুর্নীতি আড়াল করতে আমাদের স্থানান্তর করে দিচ্ছে। টাঙ্গাইলের কলেজেও পড়ালেখার পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। আমরা আমাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে দেব না। আমাদের কলেজ নরসিংদীতেই রাখতে হবে ও নতুন সেশনে ভর্তি নিতে হবে। আমরা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে চাই না, ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চাই।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে আসেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক রাশেদ হোসেন চৌধুরী, পুলিশ সুপার আবদুল হান্নানসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে নরসিংদী জেলা যুবদলের সহসভাপতি সোহরাব হোসেন ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
