বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন এবার তার সহকর্মী প্রোভিসি, ট্রেজারারসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি প্রকাশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের নেপথ্যে প্রোভিসি, ট্রেজারারসহ শিক্ষকদের একাংশকে দায়ী করেছেন। এমন অজুহাতে ভিসি অধ্যাপক ড. শূচিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট ভাঙার অভিযোগ এনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে ১৭ জন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সরাসরি বন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে সুস্পষ্টভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ এবং একজন জেষ্ঠ্য শিক্ষককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে গেট ভাঙার অভিযোগে মামলা দায়ের ঘোষণা দেওয়ায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষার্থীরা।
তারা মামলা প্রত্যাহারে ছয় ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ববি ভিসিকে ৫ দফা দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন ভিসি ড. শূচিতা রবিবার তার বাসভবনে আওয়ামী দোসর একদল শিক্ষককে নিয়ে গোপন বৈঠক করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভিসি ড. শূচিতা এবং শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোশারফ বলেন, আমাদের যে দাবিগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ না হয় তাহলে আমরা অবশ্যই বড় আন্দোলনে যাব।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট হটানোর জন্যই আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের বর্তমান ভিসি ফ্যাসিস্টদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। আমরা প্রতিবাদ করায় আমাদের বিরুদ্ধে তিনি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অথচ পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের বিরুদ্ধে তিনি নীরব। আমরা তাকে মামলা প্রত্যাহার করার ছয় ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি (রবিবার) আজকে সন্ধ্যা ছয়টায় ঘোষণা করব।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা সানোয়ার পারভেজ লিটন বলেন, উপাচার্যের মহোদয়ের নির্দেশে গতকাল (শনিবার) রাতে বন্দর থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের নামে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যের বাসভবনের গেট ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করার অভিযোগ দেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি (সানোয়ার পারভেজ লিটন) বাদী হয়ে মামলা করার জন্য অভিযোগ দেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ বা মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনার থেকেই বিষয়টি শুনলাম।
বিশ্বদ্যিালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। ছাত্রদের নামে থানায় অভিযোগ দিয়েছে সেখানে আমাদের অভিযুক্ত করা খুবই বিব্রতকর ও আপত্তিকর। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন বলেন, উপ-উপাচার্য কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ইন্ধন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাই ফ্যাসিস্ট আমলের মধ্যে কেউ যদি বলে আমি ফ্যাসিস্টের কেউ নই, তা তারা দাবি করতে পারবে না। বন্দর থানায় একটা মামলা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে যা হয়নি তার চেয়েও বড় ঘটনা ঘটে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। মামলা প্রত্যাহারের আলটিমেটামের কথা বললে উপাচার্য সাংবাদিকদের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, মামলা কি আপনাদের মনে হয় প্রত্যাহার করা উচিত?
এ সময় তিনি আরো বলেন, যুক্তি থাকতে হবে কেন আমরা মামলা প্রত্যাহার করব? তাদের আমার কাছে আসতে হবে। আমার কাছে বলতে হবে তারা যে ভুল কাজ করেছে। তার জন্য তাদের মধ্যে যদি অনুশোচনা হয়, নিশ্চয় আমরা বিবেচনা করব।
ইসরায়েলে ভারী বোমার চালান পাঠাল ট্রাম্প প্রশাসন
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদির মৃত্যু
কোনও দাবি সংখ্যালঘু হিসেবে নয়, নাগরিক হিসেবে করুন