ঢাকা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহর নজরদারিতে (মনিটরিং) এবং সংগঠনটির খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) শাখার আহ্বায়ক ওমর ফারুকের নেতৃত্বে কুয়েট ক্যাম্পাসে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হলে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর তৎপরতা বাড়বে বলে মনে করে সংগঠনটি। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এসব কথা বলেন।
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশে যত ছোট-বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর মূলে ছিল শর্টসার্কিট। গতকাল (মঙ্গলবার) সেই কাজটি করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশৃঙ্খল মব। সেখানে নেতৃত্ব দিয়েছে ওমর ফারুক এবং মনিটরিং করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘হাসনাত আবদুল্লাহ বিভিন্ন সভা-সেমিনারে মানুষকে জ্ঞান দিয়ে বেড়ান, ওয়াজ-নসিহত করেন। কিন্তু উপদেষ্টাদের মিটিংয়ে তিনি এবং নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী কোন প্রটোকলে গিয়েছিলেন, তা আমরা জানতে চাই।’
কুয়েটের সংঘর্ষে ছাত্র শিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে নাছির বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যারা আত্মপ্রকাশ করতে ভয় পেয়েছে, সেই শিবিরের সন্ত্রাসীরা কাল (মঙ্গলবার) ছাত্রদলের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা যদি হামলা না করত, এমন সংঘাত কখনোই হতো না। তাদের নির্যাতনের মাত্রা এতই বেশি ছিল যে, আহত শিক্ষার্থীরা দোকানে আশ্রয় নিলে দোকানদারদের ওপরও শিবির সন্ত্রাসীরা হামলা করে। পরে গ্রামবাসীর সঙ্গে অনাকাক্সিক্ষত হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ছাত্রদলের নামে মব সৃষ্টি করা হয়।’
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে চাওয়া ফ্যাসিবাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। ছাত্রদের রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নিতে চাওয়া অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। প্রকাশ্য রাজনীতি করার অধিকার সবার রয়েছে। কুয়েটে ছাত্রদল প্রকাশ্য রাজনীতি চর্চা করতে চায়।’
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হলে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর তৎপরতা বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিলে যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব। কথিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে গোপন সংগঠন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের আড়ালে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা করা হলে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস হবে এবং শুধু বাংলাদেশবিরোধী গোপন নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর তৎপরতা বাড়বে।’
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘কুয়েটে শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি আছে, তাহলে ছাত্রদল ফরম বিতরণ করে কী দোষ করেছে? তারাই বিনা কারণে হামলা করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যে আহ্বায়ক, তাকে আমরা শিবিরের নেতা হিসেবে জানি। তারা যদি রাজনীতি করতে পারেন, তাহলে আমরা কেন পারব না? আমরা এখনো এক এবং ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা যে অঙ্গীকার করেছি, তা বজায় রাখতে চাই। তারা বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি থাকবে না বলে প্রচার চালান। যখন তারা ব্যর্থ হন, তখন তারা শিবির হিসেবে অপপ্রচার চালান।’
শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গোপন তৎপরতার অভিযোগ করে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘উদাহরণস্বরূপ দেখা যায়, ছাত্ররাজনীতি দেখিয়ে রাজু ভাস্কর্যে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, তারাই পরে শিবির নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এত বোকা না।’
