দুবাইয়ের আকাশে ছিল স্বপ্নের আলো, কিন্তু ম্যাচ শেষে শুধুই হতাশার অন্ধকার। মাত্র ২২৮ রানের পুঁজি নিয়ে লড়াই করা যায় না—এই সত্যই যেন আজ আবারও প্রমাণ হলো। তবুও বাংলাদেশ হাল ছাড়েনি। তাসকিন আহমেদ, রিশাদ হোসেনরা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন, ভারতকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়েছেন ৪৭তম ওভার পর্যন্ত। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন তানজিম হাসান সাকিব, খরুচে বোলিংয়ে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছেন দলকে। শেষ পর্যন্ত শুবমান গিলের অসাধারণ শতকের সামনে ম্লান হয়ে গেল তৌহিদ হৃদয়ের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ৬ উইকেটের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নিল ভারত।
বাংলাদেশের পুঁজি কম হলেও একসময় ম্যাচ জমে উঠেছিল। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া করলে বড় দলের বিপক্ষে জয় পাওয়া যায় না। আজকের ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল লোকেশ রাহুলের ক্যাচ ফেলে দেওয়া। তাসকিন আহমেদের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ তুলেছিলেন রাহুল, কিন্তু সেই ক্যাচ রাখতে পারলেন না জাকের আলী। রাহুল তখন নতুন ব্যাটার, সহজ ক্যাচটি হাতছাড়া না হলে ভারতের ওপর চাপ আরও বাড়ত।
জীবন পেয়েছিলেন জাকের নিজেও। কিন্তু তার ভুল ফিল্ডিং বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে দেয়। ২২৯ রানের ছোট লক্ষ্য হলেও বাংলাদেশের বোলাররা সহজে ম্যাচ ছাড়েননি। বিশেষ করে তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ আহমেদ দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। নিজের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করেছেন ১০ ওভারে ৩৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে। ভারতের মিডল অর্ডারকে চাপে ফেলেছিলেন এই লেগস্পিনার।
যখন একপ্রান্তে উইকেট হারাচ্ছিল ভারত, তখন অন্যপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন শুবমান গিল। ১২৫ বলে তুলে নেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি। টানা দুই ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করলেন তিনি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচেও পেয়েছিলেন তিন অঙ্কের দেখা। এই ফর্মই তাকে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে তুলেছে।
গিলের স্বভাবসুলভ ধীরস্থির ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচটি একতরফা মনে হয়নি। তবে শেষ দিকে যখন ৪ ওভারে প্রয়োজন মাত্র ৬ রান, তখন ভারতের জয় শুধুই সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
লক্ষ্য ছোট হলেও শুরুতে ভালো বোলিং করেছে বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই মোস্তাফিজুর রহমানের বলে বাউন্ডারি মেরে ওয়ানডেতে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন রোহিত শর্মা। মাত্র ২৬১ ইনিংসে এই রেকর্ড গড়েছেন তিনি, যা ওয়ানডেতে দ্বিতীয় দ্রুততম। এই তালিকায় শীর্ষে আছেন বিরাট কোহলি (২২২ ইনিংস)।
কিন্তু রেকর্ড গড়া ইনিংস বড় করতে পারেননি রোহিত। বিদায় নেন ২৩ রানে। কোহলিও ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে পারেননি—৩৮ বলে মাত্র ২২ রান করে রিশাদের বলে ক্যাচ তুলে দেন। শেষ ১০ ইনিংসে তার সর্বোচ্চ রান ৫২, যা করেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
ভারতের মিডল অর্ডার ধাক্কা খাওয়ার পরও একপ্রান্ত আগলে রাখেন গিল। শ্রেয়াস আইয়ার মাত্র ১৫ রানে আউট হন, মোস্তাফিজের কাটারে টাইমিং করতে না পেরে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দেন। দ্রুত রান তুলতে অক্ষর প্যাটেলকে পাঁচ নম্বরে পাঠানো হলেও সেই কৌশল ব্যর্থ হয়—রিশাদের শিকারে পরিণত হন তিনি।
২৮ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল ১৩৪/৩। তখন ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য সম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু গিলের দৃঢ়তা, রাহুলের ক্যাচের জীবন পাওয়া আর তানজিম সাকিবের খরুচে বোলিংয়ের কারণে শেষ হাসিটা হাসে ভারতই। বাংলাদেশের বোলাররা আজ দুর্দান্ত ছিলেন, কিন্তু ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতাই মূল ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। যদি আর ৫০-৬০ রান বেশি হতো, তাহলে এই ম্যাচের গল্পটা হয়তো অন্যরকম হতে পারত। তবে যদি দিয়ে ইতিহাস লেখা যায় না।
হৃদয়ের শতক, রিশাদের দুর্দান্ত বোলিং—সব কিছুর পরও জয় ধরা দিল না। বাংলাদেশ লড়েছে, কিন্তু পারল না। আরেকটি ‘কাছে গিয়ে হারার’ গল্প যোগ হলো টাইগারদের ইতিহাসে।
ভারত চাপে, চাপে বাংলাদেশও
হৃদয়ের হৃদয়গ্রাহী সেঞ্চুরি, ভারতকে ২২৯ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
লড়াকু ইনিংসের পর আউট জাকের