ঊনআশিতে ‘মাসুদ রানা’

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৩৮ পিএম

চিত্রনায়ক, পরিচালক, প্রযোজক ও একসময়ের দাপুটে ছাত্রনেতা সোহেল রানা দেখতে দেখতে জীবনের ৭৮ বসন্ত পার করে দিলেন। পুরো নাম মাসুদ পারভেজ হলেও সবার কাছে সোহেল রানা নামেই তার পরিচয়। শুক্রবার ছিল অভিনেতার ৭৯তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

সোহেল রানার পৈতৃক নিবাস বরিশাল জেলায়। শিক্ষাজীবনে ছিলেন তুখোড় ছাত্রনেতা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। শুরুতে প্রযোজক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন তিনি। পরে চিত্রনায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

১৯৭৪ সালে লেখক-প্রকাশক কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত চরিত্র ‘মাসুদ রানা’কে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করেন তিনি। পর্দায় ‘মাসুদ রানা’ হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করেন সোহেল রানা। এরপর ‘এপার ওপার’, ‘দস্যু বনহুর’, ‘জীবন নৌকা’—এভাবে একের পর এক প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। 

সোহেল রানার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পারভেজ ফিল্মসের ব্যানারে ৩০টির অধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তিনি অন্তত ৩০টি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’-এর প্রযোজক ছিলেন। কিন্তু পরে নায়ক খ্যাতির আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় তার প্রযোজক পরিচয়।

লালু ভুলু (১৯৮৩), অজান্তে (১৯৯৬), সাহসী মানুষ চাই (২০০৩) তিনটি চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের সুবাদে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন সোহেল রানা। ২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আসরে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন এই মুক্তিযোদ্ধা-অভিনেতা।

১৯৯০ সালে ডা. জিনাত পারভেজকে বিয়ে করেন সোহেল রানা। তাদের একমাত্র ছেলে মাশরুর পারভেজ জীবরান। অভিনেতা মাসুম পারভেজ রুবেল তার ভাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত